বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী নিয়ে চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে বড় ধরনের মোড় নিতে শুরু করেছে। কূটনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন—ইরানের দেওয়া কঠিন শর্তগুলো মেনেই কি সমঝোতার পথে হাঁটছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন? বিশেষ করে পারমাণবিক ইস্যুকে আপাতত আলোচনার বাইরে রেখে হরমুজ সংকট ও যুদ্ধবিরতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার যে প্রস্তাব তেহরান দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র এখন সেই পথেই এগোচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঘোষণায় জানান, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য শুরু করা মার্কিন নৌবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা কার্যক্রম ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ট্রাম্প তাঁর এই সিদ্ধান্তের পেছনে পাকিস্তানসহ কয়েকটি বন্ধু রাষ্ট্রের অনুরোধ এবং ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’র কথা উল্লেখ করেন। একই দিনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সামরিক অভিযান ‘এপিক ফিউরি’র লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে এবং এখন ওয়াশিংটন একটি দীর্ঘমেয়াদী সমঝোতা স্মারক চায়।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, তেহরান শুরু থেকেই একটি টু-ফেজ বা দুই ধাপের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। তাদের শর্ত ছিল—প্রথম ধাপে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা নিরসন করতে হবে; পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে দ্বিতীয় ধাপে। কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় যে আলোচনা চলছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নমনীয় অবস্থান ইরানের এই দাবি মেনে নেওয়ারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন এখন পারমাণবিক বিষয়গুলো পরে আলোচনার জন্য সরিয়ে রেখে অবিলম্বে জ্বালানি সরবরাহের রুট সচল করাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা এখন তুঙ্গে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, ইসলামাবাদে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা একটি ‘স্থয়ী শান্তি চুক্তি’র পথ তৈরি করতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় সৌদি আরবের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে জানা গেছে।

উত্তেজনা কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। বিচ্ছিন্নভাবে হামলা-পাল্টা হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে বড় কোনো পূর্ণাঙ্গ চুক্তির চেয়ে বর্তমানে একটি সীমিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এতে করে সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে আসবে। তবে পারমাণবিক ইস্যুটি অমীমাংসিত থাকায় দীর্ঘমেয়াদী সংকটের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।