মধ্যপ্রাচ্যে কি শেষ হতে যাচ্ছে দুই মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাত? ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে এবার দেখা দিয়েছে জোরালো সমঝোতার সম্ভাবনা। কূটনৈতিক তৎপরতা, গোপন বার্তা আদান-প্রদান আর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে যুদ্ধবিরতির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে তেহরান ও ওয়াশিংটন।

রয়টার্স ও অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ বন্ধে একটি ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই আলোচনা এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। সমঝোতা হলে খুলে যাবে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি। সেই সঙ্গে থামতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাও।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে হরমুজ ঘিরে চালানো ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় আপাতত হামলা বন্ধ রাখা হচ্ছে। তবে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন, ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে আরও বড় হামলা চালানো হবে।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব তারা পর্যালোচনা করছে। যদিও তেহরানের ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিম বলছে, খসড়ায় কিছু অগ্রহণযোগ্য শর্ত রয়েছে।

সম্ভাব্য এই চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। খসড়া অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখতে পারে তেহরান। বিনিময়ে তুলে নেওয়া হতে পারে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, এমনকি ফেরত দেওয়া হতে পারে জব্দ থাকা দুই হাজার কোটি ডলার।

এই সমঝোতার খবরে ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে কমতে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম। যুদ্ধ শুরুর পর ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১২০ ডলার ছাড়ালেও এখন তা নেমে এসেছে ১০০ ডলারের নিচে।

তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে একটাই। বহু বছরের বৈরিতা ভুলে কি সত্যিই নতুন সম্পর্কে যেতে পারবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র? নাকি এই সমঝোতাও ভেঙে যাবে আগের চুক্তিগুলোর মতো? এখন গোটা বিশ্বের নজর তেহরান ও ওয়াশিংটনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।