ইরানের হামলার জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোর যৌথ সামরিক পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে সৌদি আরব ও কাতারকে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। তবে সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছিল বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।

শুক্রবার (১৬ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালানোর পরপরই ইউএই প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানসহ উপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ে দেয়। ২০২১ সালের ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর আওতায় ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা ইউএই এই পাল্টা হামলার সবচেয়ে বড় ধাক্কা সামলায়। দেশটির বিভিন্ন স্থাপনায় প্রায় তিন হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হানে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য নেতারা ইরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত সামরিক হামলার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা সৌদি আরব ও ইউএইর মধ্যকার আঞ্চলিক কৌশলগত বিভক্তিকে আরও স্পষ্ট করেছে। অভিন্ন প্রতিপক্ষ থাকা সত্ত্বেও দুই দেশ আলাদা অবস্থান নিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং দ্রুত পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টাকে সমর্থন দেয়। অন্যদিকে ইউএই ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালায়।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার সময় ইউএই পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের লাভান দ্বীপে হামলা চালায়। এতে সেখানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং কয়েক মাসের জন্য উৎপাদন কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরবের কাছে বিকল্প তেল রপ্তানি পথ থাকলেও ইউএইর জন্য ইরানের হুমকি তুলনামূলক বেশি। চলমান উত্তেজনা পর্যটন ও আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে দেশটির আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র যাতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যায়, সে জন্য ইউএই প্রকাশ্যে ও গোপনে তদবির চালিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণের জবাবে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতি চেয়ে জাতিসংঘে একটি প্রস্তাবও দেয় আবুধাবি, যদিও তা গৃহীত হয়নি।

ইউএই প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-এর ভূমিকার সমালোচনা করে এটিকে ‘দুর্বল’ বলে মন্তব্য করেন। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি মে মাসে ইউএই তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক থেকে নিজেদের প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের সঙ্গে ইউএইর সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি জানিয়েছেন, ইরানের হামলা মোকাবিলায় ইসরায়েল ইউএইতে ‘আয়রন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট সেনা মোতায়েন করেছে।

তবে ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করতে এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইউএই। সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় যুদ্ধ চলাকালে তার ইউএই সফরের দাবি করলেও আবুধাবি তা অস্বীকার করেছে।

প্রাইমটিভি/কেআর