নাইজেরিয়ায় আইএসবিরোধী বড় ধরনের যৌথ অভিযানে অন্তত ১৭৫ জঙ্গি নিহত হয়েছে। মার্কিন ও নাইজেরীয় বাহিনীর টানা তিন দিনের বিমান ও স্থল অভিযানে নিহতদের মধ্যে রয়েছে সংগঠনটির কয়েকজন শীর্ষ নেতাও।

নাইজেরিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, ১৬ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স বা আইএসডব্লিউএপি’র একাধিক ঘাঁটি, চেকপয়েন্ট, অস্ত্রাগার ও লজিস্টিক কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে নাইজেরীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল সামাইলা উবা জানান, অভিযানে অন্তত ১৭৫ জঙ্গি নিহত হয়েছে। এছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম।

অভিযানে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন আইএসের বৈশ্বিক পর্যায়ের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা আবু বিলাল আল মিনুকি। এছাড়া আইএসডব্লিউএপি’র শীর্ষ নেতা আবদ আল ওয়াহাব, আবু মুসা আল মাঙ্গাউই এবং আল মিনুকির ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবু আল মুথান্না আল মুহাজিরও নিহত হয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে ঘাঁটি হারানোর পর ২০১৮ ও ২০১৯ সালের দিকে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে তৎপরতা বাড়ায় আইএস। বর্তমানে নাইজেরিয়া, সাহেল অঞ্চল এবং মধ্য আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় রয়েছে সংগঠনটি।

সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটার তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে আইএসের বৈশ্বিক তৎপরতার ৮৬ শতাংশই ঘটেছে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে।

নাইজেরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই আইএস, আইএসডব্লিউএপি, বোকো হারাম এবং আল কায়েদাসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতায় ভুগছে। এসব গোষ্ঠী হত্যা, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও লুটপাটসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।

চলতি বছরের শুরুতে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে সহায়তা চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায় নাইজেরিয়া। এর পর ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ১০০ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাকে দেশটিতে পাঠানো হয়। তারা নাইজেরীয় সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি যৌথ অভিযানে অংশ নিচ্ছেন।

নাইজেরিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

প্রাইমটিভি/এনজি