ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পর এবার রাজ্যের মাদরাসাগুলোতেও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ‘বন্দে মাতরম’ গান। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার নতুন প্রশাসনিক আদেশে জানিয়েছে, প্রতিদিন ক্লাস শুরুর আগে রাজ্যের সব স্বীকৃত মাদরাসায় এই গান গাইতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদরাসা শিক্ষা দপ্তরের আওতাধীন মাদরাসা অধিদপ্তর থেকে জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত ও বেসরকারিসহ পশ্চিমবঙ্গের সব স্বীকৃত মাদরাসায় এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে। প্রতিদিন সকালের সমাবেশ বা প্রার্থনার সময় শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে।

এর আগে গত সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গের সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্যও একই ধরনের নির্দেশনা জারি করা হয়।

এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক অনলাইন পোস্টে জানান, পূর্ববর্তী সব নির্দেশনা বাতিল করে স্কুল ও মাদরাসা শিক্ষা দপ্তরের অধীন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরুর আগে সকালের সমাবেশে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে ‘বন্দে মাতরম’ ছিল ভারতের স্বাধীনতাকামীদের অন্যতম প্রধান স্লোগান। চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনের আগে গানটি আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে।

গত ফেব্রুয়ারিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’-এর সমমর্যাদা দেয়। এরপর থেকেই বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণাঙ্গ ছয়টি স্তবক গাওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়।

এদিকে তামিলনাড়ু ও কেরালাসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও ‘বন্দে মাতরম’ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক দেখা দিয়েছে। চেন্নাইয়ের একটি সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের আগে পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম’ বাজানো নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে রাজ্য সরকার।

অন্যদিকে কেরালায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে পুরো গানটি গাওয়া হলে বামপন্থী দলগুলো এর বিরোধিতা করে। তবে রাজ্য সরকার জানায়, অনুষ্ঠানের সূচি নির্ধারণ করেছিল রাজভবন। পরে এ নিয়ে বিজেপি ও বামপন্থীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক বক্তব্যও দেখা যায়।

প্রাইমটিভি/এনজি