যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক চালকবিহীন যুদ্ধবিমান ‘এমকিউ-৯ রিপার’ (MQ-9 RIPER) ড্রোন বহরে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে এসেছে। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে মার্কিন বিমানবাহিনীর মোট রিপার ড্রোনের প্রায় ২০ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই।

ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ইরান এখন পর্যন্ত প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের রিপার ড্রোন ধ্বংস করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের যে পরিমাণ রিপার ড্রোন মজুদ ছিল, এই ক্ষতি তার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বেশ কয়েকটি ড্রোন আকাশে উড্ডয়নের সময় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হামলায় ভূপাতিত হয়েছে। এছাড়া পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় আরও কিছু রিপার ড্রোন মাটিতেই ধ্বংস হয়।

এমকিউ-৯ রিপার (MQ-9 RIPER) মূলত নজরদারি ও নির্ভুল হামলার জন্য ব্যবহৃত অত্যাধুনিক ড্রোন। এটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও গাইডেড বোমা বহনে সক্ষম।

ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩০টি রিপার ড্রোন হারিয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস যে সংখ্যা দিয়েছিল, তার চেয়েও এটি বেশি।

এদিকে রয়টার্সকে দেওয়া পেন্টাগনের এক কর্মকর্তার তথ্যমতে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ইতোমধ্যে প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে দাবি করেছিলেন, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ধারাবাহিকভাবে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় সেই দাবি নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি সামরিক বাহিনী মার্কিন যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমানের নিয়মিত ফ্লাইট প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হয়েছে।

ফলে ভবিষ্যতে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে মার্কিন বাহিনীর ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই সক্ষমতা অর্জনে রাশিয়ার সহায়তা থাকতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ হিসেবে মস্কো ইরানকে স্যাটেলাইট তথ্য ও সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইরান নিজস্ব প্রযুক্তির পাশাপাশি রুশ ও চীনা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সমন্বিত ব্যবহার করছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর দুই দেশের মধ্যে পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু হয়। এরপর চীন ইরানকে অত্যাধুনিক ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সরবরাহ করেছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রাইমটিভি/এনজি