আকাশজুড়ে ঘন কালো মেঘ, থেমে থেমে বৃষ্টি আর শহরের রাস্তায় জমে থাকা পানি। এমন আবহাওয়া আগামী কয়েকদিন দেশের বড় অংশজুড়ে অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সংস্থাটি বলছে, ২৯ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টিপাতের ধারা অন্তত পাঁচ দিন পর্যন্ত চলতে পারে। বজ্রমেঘের সক্রিয়তা এবং বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। অনেক স্থানে সড়কে পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীরা। কোথাও কোথাও যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটছে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, রাজধানীতে দিনভর এমন পরিস্থিতি থাকতে পারে। মাঝে বৃষ্টি কমলেও আবার শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরে শক্তিশালী বজ্রমেঘের একটি সিস্টেম তৈরি হয়েছে, যা ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপ সক্রিয় থাকায় বৃষ্টিপাত দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এই মেঘমালা অন্তত ৯৬ ঘণ্টা সক্রিয় থাকতে পারে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, দেশের ভেতরে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সাগরের আবহাওয়াগত সিস্টেমও সক্রিয় রয়েছে। এটি মৌসুমি সময়ের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও মেঘের অবস্থান স্থিতিশীল থাকায় টানা না হয়ে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ফলে উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা জারি রয়েছে।

অন্যদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনার নিম্নাঞ্চলে পানি বাড়তে শুরু করেছে, কিছু এলাকায় পানি ঢুকে পড়ায় ভোগান্তি বেড়েছে।

কেন্দ্রটির আশঙ্কা, আগামী কয়েকদিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়ি ও হাওর অঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৯ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। রংপুর ও রাজশাহীর কিছু এলাকাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী এবং অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

এ সময়ে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।