কক্সবাজারের চকরিয়ায় মেহেদী অনুষ্ঠান হতে শিশুকে ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দায়ের মামলায় অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন স্বশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামলা দায়েরের দেড়যুগ পর এ রায় ঘোষণা হয়েছে। রায়ে অর্ধলাখ টাকা অর্থদন্ডাদেশও দেয়া হয়। যা অনাদায়ে ৬মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ঘোষণা করেছেন বিচারক।

সোমবার (১১মে) বিকেলে শিশু সহিংসতা অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল কক্সবাজারের বিচারক রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন আদালতে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ছলিমুল মোস্তফা।

অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন (৪৩) কক্সবাজারের চকরিয়ার খুটাখালী ইউনিয়নের উত্তর পাড়ার ছৈয়দুল হক মেম্বারের ছেলে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১) ধারায় তার বিরুদ্ধে এ রায় প্রচার করা হয়।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, ২০০৮ সালের ২৪ জুলাই রাত ৯টার দিকে উত্তর খুটাখালীর গর্জনতলী এলাকার হাজী মমতাজ আহমদের ছেলে জয়নালের বিবাহের মেহেদী অনুষ্ঠান দেখতে যায় প্রতিবেশী সাত বছর বয়সী মেয়েটি। এসময় স্থানীয় মেম্বার ছৈয়দুল হকের ছেলে ইকবাল হোসেন শিশুটিকে তার মা ঘরে ডাকছে বলে কৌশলে সাথে নেয়। হাতে টাকা দিয়ে বিয়ে বাড়ির পেছনে হলুদ খেতে নিয়ে ভিকটিমকে মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক যৌন নিপীড়ন চালায় ইকবাল। এতে ভিকটিমের যৌনাঙ্গে মারাত্মক আঘাতসহ প্রচুর রক্ত ক্ষরণ হয়। ভিকটিমের মা ছেনোয়ারা মেয়েকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২৭ জুলাই ভিকটিমের মা বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় ইকবালের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেন (২৪/০৮ইং)। তদন্ত কর্মকর্তা একই বছরের ২১ অক্টোবর আসামি ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মেডিকেল রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছলিমুল মোস্তফা বলেন, মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র, ভিকটিমের ২২ধারার জবানবন্দি, মেডিকেল রিপোর্ট এবং সাক্ষীদের জেরা-জবানবন্দি পর্যালোচনায় আসামি ইকবাল হোসেনকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে। যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় প্রচার করেন।

তিনি আরো বলেন, ঘটনা সংগঠনের সময় অভিযুক্তের বয়স ছিল ২৫ বছর। এখন তার বয়স ৪৩। অভিযুক্তের কাছ থেকে আদায়কৃত ৫০ হাজার টাকা ভিকটিমকে প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়। রায়ে ভিকটিমের পরিবার ও রাষ্ট্র সন্তুষ্ট।

পেশকার মো. সালাউদ্দিনের সহযোগিতায় পরিচালিত আদালতে আসামি পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এডভোকেট তাহসিন সাবজিল।