অভিনয়ে পারদর্শী নেইমার, থালা বাটিতে দেয় লাথি

নেইমারের মত দেখতে ষাঁড় । ছবিঃ সংগৃহীত
যশোরের অভয়নগর উপজেলায় বিশালদেহী এক ষাঁড় এখন স্থানীয়দের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ব্রাজিলিয়ান তারকা ফুটবলার নেইমারের চুলের স্টাইলের সঙ্গে মিল থাকায় মালিক স্নেহভরে ষাঁড়টির নাম রেখেছেন ‘নেইমার’। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বিক্রির জন্য প্রস্তুত রাখা এই ষাঁড়টির ওজন প্রায় ৩৫ মণ। মালিক এর দাম হাঁকিয়েছেন ১২ লাখ টাকা।
স্থানীয়ভাবে বিরল আকৃতির এই ষাঁড়টির উচ্চতা প্রায় সাড়ে পাঁচ ফুট। শরীর বাদামি রঙের হলেও মাথা, মুখ ও গলার সামনের অংশ সাদাটে রঙের। শরীরের বিভিন্ন অংশে হালকা সাদা দাগ এবং মাথার সামনে কোঁকড়ানো চুল এটিকে অন্য সব গরু থেকে আলাদা করে তুলেছে।
ষাঁড়টির মালিক দেবু পাঁড়ে জানান, ২০২২ সাল থেকে তিনি পারিবারিকভাবে গরু পালন শুরু করেন। ছোটবেলা থেকেই পশুপালনের প্রতি আগ্রহ থাকায় ধীরে ধীরে খামার গড়ে তোলেন তিনি। বর্তমানে তার খামারে ছয়টি গরু রয়েছে, যার মধ্যে দুটি ষাঁড়।
তিনি জানান, নেইমারকে সন্তানের মতো করে লালনপালন করা হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার টাকার খাবার দেওয়া হয়। খাদ্য তালিকায় থাকে খৈল, ভুষি, খড়, ভুট্টার গুড়া, সামান্য ভাত এবং সবুজ ঘাস। পাশাপাশি নিয়মিত যত্ন ও গোসল করানো হয়।
দেবু পাঁড়ে আরও জানান, ষাঁড়টি অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের। তাই অনেক সময় এটিকে দড়ি ছাড়া রাখা হয়। তবে মাঝে মাঝে খেলাচ্ছলে শিং দিয়ে হালকা গুঁতো দেওয়া বা খাবারের পাত্রে লাথি দেওয়ার মতো আচরণ করে, যা দেখার জন্যও উৎসুক মানুষ ভিড় করছেন।
স্থানীয়রা জানান, দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ‘নেইমার’কে এক নজর দেখতে আসছে। কেউ ছবি তুলছে, কেউ ভিডিও করছে। এলাকায় এটি এখন এক ধরনের আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
ষাঁড়টির দেখাশোনায় দেবু পাঁড়ের মা ইতি পাঁড়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি বলেন, গরুটি পরিবারের একজন সদস্যের মতো হয়ে গেছে। বিক্রির কথা ভাবতেই মন খারাপ লাগে, তবে আর্থিক প্রয়োজনেই এটি বিক্রি করতে হবে।
এ বিষয়ে অভয়নগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, তিনি ষাঁড়টি পরিদর্শন করেছেন। প্রাণীটি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং প্রাকৃতিক খাবারে লালিত। এখনো সঠিক ওজন নির্ধারণ করা হয়নি, তবে এটি একটি বড় আকৃতির ষাঁড়।
ঈদকে সামনে রেখে এই ‘নেইমার’ এখন শুধু একটি খামারের গরু নয়, বরং পুরো এলাকার মানুষের আগ্রহ ও কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
প্রাইমটিভি/এনজি

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।








