স্ত্রী-মেয়েকে হত্যা করে ঘরে মাটিচাপা, ৭ মাস অন্য নারী নিয়ে বসবাস

ছবিঃসংগৃহীত
এই মাসের শুরুতে ভারতের মেহসানা জেলার একটি সরকারি হাসপাতালে এক যুবক ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত সেখানে যায় এবং মরদেহের প্রাথমিক তদন্ত করে। পরে ওই ব্যক্তির পকেট থেকে একটি কাগজ পাওয়া যায়।
ওই ব্যক্তি কাগজে লিখে গেছেন যে, তিনি তার স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যা করেছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চিঠিতে তিনি জানান, প্রায় সাত মাস আগে স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী মেয়েকে হত্যা করেন এবং তাদের মরদেহ যে বাড়িতে পুঁতে রেখেছেন, সেটিও উল্লেখ করেন।
পরদিন পুলিশ একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়ে ওই বাড়িতে যায়। নির্দিষ্ট জায়গায় মাটি খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, স্বামী প্রায় সাত মাস আগে স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যা করে বাড়িতেই পুঁতে রাখেন।
সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, হত্যার পর ওই ব্যক্তি তার আরেক মেয়েকে নিয়ে একই বাড়িতে সাত মাস ধরে ছিলেন। পুলিশ জানায়, তিনি যেখানে মরদেহ পুঁতে রেখেছিলেন, সেখানেই নিয়মিত খেতেন।
ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়া ব্যক্তির নাম গিরিশ (৩০)। তার স্ত্রীর নাম প্রিয়াঙ্কা, বয়স ২৯ বছর। নিহত মেয়ের নাম পরী। পুলিশ প্রায় দুই ঘণ্টা খোঁজার পর মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যার পর গিরিশ প্রথমে মরদেহ মাটিচাপা দেন, পরে তার ওপরে সিমেন্টের প্লাস্টার করেন।
পুলিশের ভাষ্য, পুলিশ জানায়, চার বছর আগে গিরিশ তার পছন্দের মেয়ে প্রিয়াঙ্কাকে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেন। তারা একসময় সহপাঠী ছিলেন এবং সেখান থেকেই তাদের প্রেম শুরু হয়।যরা বলছে, শুরুতে দুই পরিবারের কেউই এই বিয়ে মেনে নেয়নি। তবে পরে তারা বিষয়টি মেনে নেয়। গিরিশ স্থানীয় একটি কারখানার ডায়মন্ড পলিশ বিভাগে কাজ করতেন।
বিয়ের পর প্রিয়াঙ্কা স্থানীয় একটি হাসপাতালে চাকরি নেন। গিরিশের মা তাদের সঙ্গে থাকতেন, তবে বিয়ের এক বছর পর তিনি মারা যান। এরপর এক বছর পর গিরিশ ও প্রিয়াঙ্কার যমজ কন্যাসন্তান জন্ম নেয়।
প্রিয়াঙ্কার দাদা রমনভাই যোপ্রিয়াঙ্কার দাদা রমনভাই যোগী বলেন, ‘প্রিয়াঙ্কা আমার কাছেই বড় হয়েছে। যখন সে গিরিশকে কোর্ট ম্যারেজ করে, তখন আমরা চিন্তিত ছিলাম। পরে অবশ্য আমরা বিষয়টি মেনে নিই।’ গিরিশের মা বেঁচে থাকা পর্যন্ত তাদের মাঝে তেমন কোনও সমস্যা ছিল না। তবে যমজ কন্যাসন্তান জন্মের পর থেকেই তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ শুরু হয়।
পরিপরিবার জানায়, মেয়েদের জন্মের পর প্রিয়াঙ্কা চাকরি ছেড়ে দেন। সংসারের খরচও বাড়তে থাকে, আর সেখান থেকেই দ্বন্দ্ব শুরু হয়। রমনভাই জানান, তখন দুই পরিবারই গিরিশ ও প্রিয়াঙ্কাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করত।ার ভাষায়, ‘আমরা ব্যবসার জন্য গিরিশ ও প্রিয়াঙ্কাকে টাকা পাঠিয়ে সাহায্য করতাম। কিন্তু মেয়েদের জন্মের পর গিরিশ প্রিয়াঙ্কাকে নানা কথা শুনাতো। তখন থেকেই পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে।’
তার দাবি, প্রিয়াঙ্কা প্রায়ই ফোনে নিজের সমস্যার কথা জানাতেন। তিনি বলেন, ‘২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে সে আমাকে শেষবার ফোন করেছিল। এরপর থেকে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।’
পুলিশ জানায়, পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর গিরিশ ফোনে প্রিয়াঙ্কার দাদাকে জানান, প্রিয়াঙ্কা তার মেয়ে পরীকে নিয়ে কোথাও চলে গেছেন। তাদের অন্য যমজ মেয়ে চাহাত তখন গিরিশের কাছেই ছিল।
তার ভাই জানান, খবর পেয়ে তিনি গিরিশের বাড়িতে যান এবং তাকে থানায় অভিযোগ করতে বলেন। কিন্তু গিরিশ বিষয়টি এড়িয়ে যান।
তিনি বলেন, ‘গিরিশ নানা অজুহাত দিত। বলত, প্রিয়াঙ্কা কয়েক দিনের মধ্যেই ফিরে আসবে। এমনও বলেছিল, এর আগেও এমন হয়েছে। এসব শুনে আমার সন্দেহ হচ্ছিল যে কিছু একটা ঠিক নেই।’
এই সময়ের মধ্যে প্রিয়াঙ্কার পরিবারের কেউ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। প্রায় সাত মাস পর, চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল প্রিয়াঙ্কার দাদা তার নাতনি ও নাতনির মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে থানায় অভিযোগ করেন। পুলিশ জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর গিরিশকে দুইবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়।
গিরিশ কাজে গেলে তার মেয়ে চাহাতকে নিজের বোনের বাসায় রেখে যেতেন। পুলিশ জানায়, এজন্য গিরিশের বোনকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল।
স্থানীয় থানার পুলিশ পরিদর্শক এম এন দাভে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে আমাদের সন্দেহ হয়েছিল। তাই আমরা গিরিশকে বলেছিলাম, তদন্তের জন্য তার বোনকে সঙ্গে আনতে। কিন্তু বোনকে নিয়ে থানায় আসার আগেই সে হাসপাতালের ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করে।’ুলিশ জানিয়েছে, প্রায় চার ফুট গভীর থেকে উদ্ধার করা হাড়ের নমুনা বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সেগুলো গিরিশের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা ও মেয়ে পরীর-ই মরদেহের অবশিষ্টাংশ। পরে তাদের শেষকৃত্যের জন্য সেগুলো প্রিয়াঙ্কার দাদা রমনভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
প্রাইমটিভি

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।








