গৃহযুদ্ধের কারণে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে থাকা সুদানের দুর্ভিক্ষকবলিত মানুষদের জন্য পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৩টি গরু ও ৩টি ছাগল কুরবানি করেছে বাংলাদেশী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ। একইসঙ্গে যুদ্ধবিদ্ধস্ত ফিলিস্তিনের গাজাবাসী, মিশরেরর শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া নিপীড়িত জনগোষ্ঠী ও বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জন্য আগামীকাল আরও ৫২টি পশু কুরবানির প্রস্তুতি নিয়েছে সংস্থাটি।

হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৪৪টি গরু, ১টি উট, ৬টির বেশি দুম্বা ও খাসি এবং ৭টি ছাগল মিলিয়ে মোট ৫৮টি পশু কুরবানি করার প্রস্তুতি নিয়েছে তারা। এর মধ্যে সুদানে আজই ৩টি গরু ও ৩টি ছাগল কুরবানি করা হয়েছে। বাংলাদেশ, গাজা ও সুদানের মূল ভূখন্ডের পাশাপাশি মিশরের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া গাজা ও সুদানবাসীর জন্য পশু কুরবানির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এসব কুরবানির মাংস পর্যায়ক্রমে বাস্তুচ্যুত পরিবার, আশ্রয়কেন্দ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

গাজায় পশু কোরবানির বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটি জানিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ, যুদ্ধ ও খাদ্যসংকটে বিপর্যস্ত গাজা ভূখণ্ডে সাধারণ মানুষের জন্য কুরবানির পশু ক্রয় প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংস্থাটি তাদের জন্য পশু কোরবানির পাশাপাশি প্রায় ১৫ মন কুরবানির গোশত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করছে, যা পর্যায়ক্রমে বাস্তুচ্যুত পরিবার, আশ্রয়কেন্দ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিতরণ করা হবে। মিশরে আশ্রয় নেওয়া গাজা ও সুদানের শরণার্থীদের জন্যও কুরবানির বিশেষ ব্যবস্থা করেছেন তারা। সেখানে কুরবানি করা হবে ৪টি গরু, ১টি উট এবং ৬টি দুম্বা ও খাসি।

অন্যদিকে, সুদানের গৃহযুদ্ধ ও ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যেও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটি। সেখানে সংগঠনটির উদ্যোগে ৩টি গরু ও ৩টি ছাগল কুরবানি করা হয়েছে। বারাকা ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় তাকাত ক্যাম্প ও উবাইদ অঞ্চলের শরণার্থী পরিবারগুলোর মাঝে কুরবানির গোশত বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ফিলিস্তিন ও সুদানের নিপীড়িত মানুষের পাশাপাশি বাংলাদেশেও সংগঠনটির উদ্যোগে ৩৭টি গরু ও ৪টি ছাগল কুরবানির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এসব পশুর মাংস প্রতিবন্ধী পরিবার, নওমুসলিম, এতিম শিশু, বিধবা নারী এবং সুবিধাবঞ্চিত মক্তব শিক্ষার্থীদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ।

হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশের মহাপরিচালক নওমুসলিম মুহাম্মদ রাজ বাংলাভিশনকে বলেন, ইসরায়েলী আগ্রাসনে গাজার মানবিক বিপর্যয়ের শুরু থেকেই আমরা সেখানকার নিপীড়িত মুসলমানদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে আসছি। আলহাম্দুলিল্লাহ গাজার একাধিক হাসপাতাল আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের মানবিক কার্যক্রমকে স্বীকৃতি দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও ফিলিস্তিন টিভি ইতোমধ্যে আমাদের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। গাজা, সুদান কিংবা বাংলাদেশের কোনো অসহায় মানুষের আহাজারি আমরা উপেক্ষা করতে চাই না। দাতাদের আমানত সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকৃত প্রাপকের হাতে পৌঁছে দিতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

উল্লেখ্য, হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ দেশ ও দেশের বাইরে প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন, নওমুসলিম সহায়তা, প্রত্যন্ত অঞ্চলে মক্তব প্রতিষ্ঠা, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্প এবং স্কিল ডেভেলপমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনার মধ্যেদিয়ে বেশ পরিচিতি অর্জন করেছে। সংগঠনটির তথ্যমতে, গত এক বছরে অসহায় নারী, বিধবা মা ও দরিদ্র পরিবারের চিকিৎসা ও স্বাবলম্বীকরণ খাতে এক কোটিরও বেশি টাকার সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

প্রাইমটিভি/এনজি