জনতুষ্টি নয়, দীর্ঘমেয়াদি সুশাসনই লক্ষ্য- জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে তথ্যমন্ত্রী

ছবি- সংগৃহীত
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, সরকার জনতুষ্টিমূলক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই কাজ করছে।
সোমবার সচিবালয়ে ঈদ-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমদানিনির্ভর দেশগুলো অনেক আগেই মূল্য সমন্বয় করেছে। তবে বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রেখেছিল।
তিনি বলেন, “আমরা আমদানিনির্ভর দেশ। জ্বালানি আমদানি করেই চাহিদা মেটাতে হয়। তাই আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি এবং আমদানি ব্যয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।”
মন্ত্রী জানান, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের নেতৃত্বে গঠিত পরামর্শক কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
তার ভাষায়, “সরকারের কাজ শুধু জনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়, দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও সুশাসন নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সেই লক্ষ্যেই জ্বালানি খাতে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, রোববার রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগ নতুন মূল্যহার ঘোষণা করে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি লিটার অকটেনের দাম ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে প্রতি লিটার ডিজেল আগের মতোই ১১৫ টাকায় বিক্রি হবে।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির আওতায় এই সমন্বয় করা হয়েছে।
প্রাইমটিভি/কেআর

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।








