শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার, পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ঘটনার নেপথ্যে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র উদ্‌ঘাটনের দাবিতে রাজধানীতে মশাল মিছিল করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে শাহবাগ মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় রাজু ভাস্কর্যের সামনে এসে কর্মসূচি শেষ করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

মিছিল চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা ‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’, ‘ওসমান হাদি বাংলাদেশের আজাদী’ এবং ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

এর আগে বুধবার (৩ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বারবার বিলম্ব করা হচ্ছে এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আড়াল করতে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের ব্যাখ্যা ও পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে। শুধু রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করেন না তিনি। তার দাবি, ঘটনার পেছনে আরও গভীর দেশি-বিদেশি সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডে ভারতের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার অভিযোগও উত্থাপন করেন আবদুল্লাহ আল জাবের। পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই বক্তব্য থেকে এমন ধারণা পাওয়া যায় যে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে, যার পরিচয় প্রকাশ পেলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।

তিনি আরও দাবি করেন, ওসমান হাদিকে শুধু আওয়ামী লীগবিরোধী অবস্থানের কারণে হত্যা করা হয়নি। হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার সময় অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় ছিল উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এ ঘটনায় কোনোভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলে জাবের বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরপরই সীমান্ত সিল করার উদ্যোগ নেওয়া হলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যেতে পারত না। বিলম্বের কারণে তারা দেশ ছাড়ার সুযোগ পেয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তার ভাষ্য, একটি বেসরকারি অনুসন্ধানী সংস্থা সম্ভাব্য অভিযুক্তদের পরিচয় প্রকাশ করতে পারলেও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো এখনো তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে পারেনি।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক তদন্তেরও দাবি জানানো হয়।

প্রাইমটিভি/কেআর