নওগাঁ শহরের নামাজগড় মাদ্রাসাপাড়া এলাকা থেকে আবদুল্লাহ আল নীরব (১৪) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার (২৮ জুন) সকাল ৭টার দিকে নামাজগড় মাদ্রাসাপাড়ায় অবস্থিত গাউসুল আজম এতিমখানার আবাসিক ভবনের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত নীরব পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার চাদভা গ্রামের রুবেল হোসেনের ছেলে। তিনি নওগাঁ শহরের নামাজগড় গাউসুল আজম আলিম মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং গাউসুল আজম এতিমখানার আবাসিক ছাত্র ছিলেন।

নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, নিহত শিক্ষার্থীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, আবাসিক শিক্ষার্থী ও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৭ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নীরব এতিমখানাসংলগ্ন মসজিদে অন্য আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এশার নামাজ আদায় করে। পরে রাত ৯টার দিকে শহরের রজাকপুর এলাকায় তার চাচার বাড়িতে রাতের খাবার খেতে যায়। খাবার শেষে ফেরার পথে মাদ্রাসাপাড়ার একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে তাকে দেখা যায়। ওই সময় সেখানে এতিমখানার আরও কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।

সূত্র জানায়, অন্য শিক্ষার্থীরা রাত ১০টার মধ্যে আবাসিক হলে ফিরে এলেও নীরব আর ফেরেনি। পরদিন সকালে স্থানীয় লোকজন আবাসিক ভবনের পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয় বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন, “সকালে আমার স্ত্রী বাড়ি থেকে বের হয়ে এতিমখানার মূল গেটের কয়েক গজ উত্তরে ওই ছাত্রের মরদেহ দেখতে পান। পরে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পুলিশ মাদ্রাসার ছাত্র, শিক্ষক ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।”

এতিমখানার আবাসিক শিক্ষার্থী ও মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র আবদুল্লাহ জানান, আবাসিক হলের নিয়ম অনুযায়ী রাত ১০টার মধ্যে সবাইকে হলে ফিরতে হয়। নির্ধারিত সময়ের পরে ফিরলে শাস্তি দেওয়া হয়, অনেক সময় মারধরের ঘটনাও ঘটে। তার দাবি, নীরব চাচার বাড়ি থেকে ফেরার পথে বিয়ের অনুষ্ঠানে কিছু সময় অবস্থান করেছিল। তবে রাত ১০টার আগে হলে আর ফিরে আসেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নামাজগড় গাউসুল আজম আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জিল্লুর রহমান এবং পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুস ছাত্তার গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

প্রাইমটিভি/এমআর