তিস্তার পানিতে প্লাবিত উত্তরের পাঁচ জেলার নিম্নাঞ্চল

তিস্তার পানিতে প্লাবিত উত্তরের নিম্নাঞ্চল । প্রাইম টিভি
উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিতে উত্তরাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিস্তা ও দুধকুমারসহ বিভিন্ন নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে কোথাও বিপৎসীমার কাছাকাছি, আবার কোথাও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে রংপুর ও কুড়িগ্রামের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়ার পর তিস্তার পানি আরও বেড়ে যায়। পানির চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলের অন্তত ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনও শুরু হয়েছে।
গঙ্গাচড়া উপজেলার সাত ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি চর প্লাবিত হয়েছে। শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে রয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে পাট, ধানের বীজতলা ও সবজিখেত। রান্না ও স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অন্যদিকে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদের পানি গত ১৮ ঘণ্টায় ২৬ সেন্টিমিটার বেড়ে পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। লোকালয়ে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে গুচ্ছগ্রাম ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
নাগেশ্বরীতেও দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গাধর, শংকোষ ও ফুলকুমার নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। চরাঞ্চলের বহু বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। রোপা আমনের বীজতলা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন কৃষকরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী তিন দিন তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র, শুকনো খাবার ও মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রেখেছে জেলা প্রশাসন। নদীতীরবর্তী এলাকায় সতর্কতামূলক মাইকিংও চালানো হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উজান ও রংপুর অঞ্চলে আগামী কয়েক দিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
প্রাইমটিভি/এনজি

ডেস্ক রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









