বরিশালে দায়ের করা একটি নালিশী মামলায় মৃত চার আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে মিছিল, ককটেল ও হাতবোমা নিক্ষেপের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর মামলার এজাহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা ও জাতীয় ছাত্রশক্তির বরিশাল মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারজুক আব্দুল্লাহ।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার জানান, আদালত মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের জন্য উপ-পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, মোট ২৪৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১০ জুন নগরীর গড়িয়ারপাড় এলাকায় আওয়ামী লীগের ব্যানারে মিছিল করে মহাসড়কে টায়ারে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। আগুন নেভাতে গেলে হামলা, হত্যার হুমকি এবং ককটেল ও হাতবোমা নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।

তবে এজাহারে যাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের মধ্যে অন্তত চারজন এর আগেই মারা গেছেন।

এজাহারে ২১২ নম্বর আসামি খন্দকার রেজাউরের বিরুদ্ধে ১০ জুনের ঘটনায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ করা হলেও তিনি ২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি মারা যান।

এ ছাড়া ১৯৮ নম্বর আসামি আবুল ফারুক, যিনি ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ মারা গেছেন, তাঁর বিরুদ্ধেও একই দিনের মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, ২২৫ নম্বর আসামি হাফিজুর রশিদ (মৃত্যু: ১৯ অক্টোবর ২০২১) এবং ১৯৫ নম্বর আসামি আলী হাওলাদার (মৃত্যু: ২৬ জুলাই ২০২১)-এর বিরুদ্ধেও ওই মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ ও সহিংস কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।

মৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় মামলার এজাহারের তথ্যের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আদালতের নির্দেশে পুলিশ তদন্তের পর বিষয়টির প্রকৃত সত্যতা জানা যাবে।

প্রাইমটিভি/এমএইচ