ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় এক মাদরাসাছাত্রীকে নিয়ে শিক্ষক উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ৩৫ দিন পেরিয়ে গেলেও অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রীর কোনো সন্ধান মেলেনি।

ঘটনায় শুক্রবার ( জুন) অভিযুক্ত শিক্ষক ইকরামুল ইসলামসহ অজ্ঞাত আরও দুইজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন ছাত্রীর বাবা।

পরিবার মামলার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শিতলী রোকেয়া খাতুন মাদরাসার শিক্ষক ইকরামুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে একই প্রতিষ্ঠানের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ইশিতা আক্তার ইভাকে (১৪) উত্ত্যক্ত করতেন এবং প্রেমের প্রস্তাব দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদুল আজহার দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ইভা তার এক বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। দীর্ঘ সময় পার হলেও সে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারেন, সে সেখানে যায়নি। পরে আত্মীয়স্বজন সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

স্থানীয়দের কাছ থেকে পরে পরিবার জানতে পারে, উপজেলার মান্দিয়া গ্রামের একটি সড়ক থেকে শিক্ষক ইকরামুল ইসলাম কয়েকজন সহযোগীর সহায়তায় ইভাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে মোটরসাইকেলে তুলে ঝিনাইদহ শহরের দিকে নিয়ে যান।

অভিযুক্ত শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি যশোরের কেশবপুর উপজেলার সারুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে শিতলী রোকেয়া খাতুন মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন।

ঘটনার বিষয়ে মাদরাসার পরিচালক মুফতি বুরহান উদ্দীন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে ৩৫ দিন পার হলেও মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবার। দ্রুত ইভার সন্ধান এবং তাকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

পরিবারের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পরও পুলিশ এখনো কার্যকরভাবে ছাত্রীকে উদ্ধার করতে পারেনি। যদিও তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হরিণাকুণ্ডু থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফজলুল হক জাহিদ জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের যশোরের কেশবপুরের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে শিক্ষকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় প্রযুক্তিগতভাবে তাকে শনাক্ত করতে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবুও দ্রুত ছাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি (তদন্ত) অসিত কুমার রায় বলেন, ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং নিখোঁজ ছাত্রীকে উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এখনো তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

প্রাইমটিভি/এমআর