দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা এবং আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে সরকার। তাঁদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের ৭৪ সদস্যের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে আবেগঘন বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা এমন কিছু মানুষকে স্মরণ করছি, যাদের আজ আমাদের মাঝে থাকার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা নেই।’

তিনি বলেন, এসব মানুষের ত্যাগের বিনিময়েই দেশের মানুষ ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁরা কোথায় ও কী অবস্থায় আছেন, তা একমাত্র আল্লাহই জানেন। তাঁদের জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান তিনি।

শহীদদের আকাঙ্ক্ষা পূরণের প্রতিশ্রুতি

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সর্বশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মদানকারীদের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন সময়ে গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিবর্গ এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্তদের যে লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা ছিল—এই সরকার তা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।’

বাস্তবতার কারণে সব কাজ দ্রুত করা সম্ভব না হলেও সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বড় অর্জনের জন্য যারা বড় ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাঁদের অনেকে আজ আর বেঁচে নেই। যারা বেঁচে আছেন, তাঁরাও বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাঁদের ত্যাগের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

‘আপনারাই আমাদের শক্তি’

শহীদ ও আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ত্যাগকে সরকারের কাজের অন্যতম প্রধান প্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, অনেকে মনে করতে পারেন সরকার এসব পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তাঁদের ত্যাগ, সমর্থন ও সহযোগিতাই সরকারকে পূর্ণ উদ্যমে কাজ করার সাহস দিচ্ছে।

শহীদ পরিবারের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারাই আমাদের শক্তি ও উদ্দীপনার মূল উৎস।’

দেশ ও জাতিকে নিয়ে শহীদ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের যোদ্ধাদের যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণে সরকারের পাশে থেকে সহযোগিতা ও উৎসাহ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন। তাঁরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে নিজেদের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবারের’ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস