বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির প্রকাশ্যে আসার চেয়ে গোপন থেকে সাধারণ শিক্ষার্থী সেজে থাকার মধ্যেই বেশি সুবিধা দেখছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। রোববার (১০ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ছাত্ররাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট শিবিরের কৌশল নিয়ে এই বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।

রাশেদ খাঁন তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে, আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে শিবিরের অনেক নেতাকর্মী প্রকাশ্যে এলেও তারা আবারও আগের মতোগুপ্তবা গোপন হওয়ার পরিকল্পনা করছে। তার মতে, প্রকাশ্যে আসার আগের পরের সময়কাল বিশ্লেষণ করে তারা দেখেছে যে, সাধারণ শিক্ষার্থী পরিচয়ে মিশে থাকলেই সাংগঠনিক সুবিধা বেশি পাওয়া যায়।

গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের ছাত্ররাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, এখন আর জোরপূর্বক মিছিল-মিটিং বা গেস্টরুম নির্যাতনের সংস্কৃতি নেই। তবে ইডেন কলেজের সাম্প্রতিক আন্দোলনের উদাহরণ টেনে তিনি একটি ভিন্ন চিত্র ফুটিয়ে তোলেন।

রাশেদ খাঁন বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীরা পরিচয় গোপন না করে রাজপথে নামলেও, বর্তমানে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে অনেককে নেকাব বা মাস্ক পরে আন্দোলনে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে।

ইডেন কলেজ সংলগ্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর যুগলদের বসে থাকা নিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, ধরণের সামাজিক পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আন্দোলন হলে সাধারণ মানুষ তা সাধুবাদ জানাবে। তিনি স্পষ্টভাবে মত দেন যে, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা কোনো সমাধান নয়। বরং ক্যাম্পাসে রাজনীতির নামে যে অপসংস্কৃতি চলে, সেটিই নিষিদ্ধ হওয়া উচিত।

রাশেদ খাঁনের এই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা ছাত্র-রাজনীতির গতিপ্রকৃতি সংগঠনগুলোর কৌশল নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত ঘটিয়েছে।