ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং তার স্ত্রী আরিফা জেসমিন কনিকার গত ১৫ বছরের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১৮ মে) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন। দুদকের পক্ষে আবেদন করেন সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন ইসলাম।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, জুনাইদ আহমেদ পলক ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। তার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাদের নামে ৯ কোটি ৯৮ লাখ ৯৩ হাজার ৪৩৯ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে, যা তাদের বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া তাদের নামে পরিচালিত ৩১টি ব্যাংক হিসাবে মোট ২২ কোটি ৯৪ লাখ ৭১ হাজার ৯৭৯ টাকা জমা এবং ১৭ কোটি ৫৮ লাখ ৮২ হাজার ৮৭৭ টাকা উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। দুদকের দাবি, এসব অস্বাভাবিক লেনদেন মানিলন্ডারিংয়ের আওতায় পড়তে পারে।

আবেদনে আরও বলা হয়, অনুসন্ধানের স্বার্থে ২০০৮-২০০৯ করবর্ষ থেকে ২০২৪-২০২৫ করবর্ষ পর্যন্ত পলক ও তার স্ত্রীর দাখিলকৃত আয়কর নথির মূল কপি ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ড সংগ্রহ করা জরুরি। নথিগুলো জব্দ না করা হলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণ গোপন বা লোপাট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমানে জুনাইদ আহমেদ পলক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২–এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় তদন্ত চলছে।

প্রাইমটিভি/কেআর