আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জন্য প্রাইজমানি এবং অংশগ্রহণ ফি বৃদ্ধির বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আগামীকাল কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে এই বর্ধিত তহবিলের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। মূলত আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল যাতায়াত, আবাসন এবং উচ্চ করের বোঝা নিয়ে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর উদ্বেগের মুখেই এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

বিশ্বকাপের আগের আসরগুলোতে ফিফা অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জন্য কর মওকুফ নিশ্চিত করতে পারলেও এবার যুক্তরাষ্ট্র সরকার সেই সুবিধা দেয়নি। এর ফলে একেক রাজ্যে একেক হারে কর গুনতে হবে দলগুলোকে। ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৩.৩ শতাংশ কিংবা নিউ জার্সিতে ১০.৭৫ শতাংশ করের ধাক্কা সামলে অনেক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনই লোকসানের আশঙ্কা করছিল। ইংলিশ এফএ-সহ ইউরোপের প্রভাবশালী দেশগুলোর দাবি ছিল, সেমিফাইনাল পর্যন্ত না যেতে পারলে যাতায়াত ও অপারেশনাল খরচ মিটিয়ে লাভের মুখ দেখা অসম্ভব। এই বাস্তবতার প্রেক্ষিতেই ফিফা প্রাইজমানির অঙ্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

ফিফা প্রাথমিকভাবে ৭২৭ মিলিয়ন ডলারের রেকর্ড প্রাইজমানি ঘোষণা করেছিল। আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি দলের ন্যূনতম ১০.৫ মিলিয়ন ডলার এবং চ্যাম্পিয়ন দলের ৫০ মিলিয়ন ডলার পাওয়ার কথা ছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্তে এই অঙ্ক কয়েক ধাপ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া রাউন্ড অফ ৩২ এবং কোয়ার্টার ফাইনালের জন্য নির্ধারিত অতিরিক্ত বোনাসও পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে।

বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী আর্থিক অবস্থানে রয়েছে ফিফা। বর্তমান চার বছরের সাইকেলে সংস্থাটি ১৩ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যার মধ্যে কেবল আসন্ন বিশ্বকাপ থেকেই আসবে ৯ বিলিয়ন ডলার। এই বিশাল রাজস্বের কথা মাথায় রেখেই ২১১টি সদস্য দেশের জন্য নির্ধারিত ২.৭ বিলিয়ন ডলারের 'উন্নয়ন তহবিল' বা 'ফিফা ফরোয়ার্ড প্রোগ্রাম'-এর অনুদানও বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ফিফার মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বৈশ্বিক ফুটবলের উন্নয়ন এবং দলগুলোর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই প্রস্তাবিত বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা চলছে। ভ্যাঙ্কুভারের বৈঠকের পরেই জানা যাবে চূড়ান্ত প্রাইজমানির সঠিক পরিমাণ।