দরজায় কড়া নাড়ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত বৈশ্বিক আসর। তবে বিস্ময়কর হলেও সত্য, বিশ্বকাপের চূড়ান্ত ক্ষণ ঘনিয়ে এলেও বিশ্বের দুই জনবহুল দেশ ভারত ও চীনে এখনও চূড়ান্ত হয়নি বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব। এই জটিলতা না কাটলে ফুটবল দেখা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন পৃথিবীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের জনসংখ্যা ১.৪৭ বিলিয়ন এবং চীনের ১.৪২ বিলিয়ন। অর্থাৎ এই দুই দেশের মোট জনসংখ্যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে বৈশ্বিক টিভি দর্শকের ১৭.৭% ছিল চীনের এবং ২.৯% ছিল ভারতের। এছাড়া ডিজিটাল স্ট্রিমিংয়ে এই দুই দেশের সম্মিলিত অবদান ছিল প্রায় ২২.৬%। এত বিশাল এক দর্শকগোষ্ঠীকে বাইরে রেখে বিশ্বকাপের আয়োজন ফিফার জন্য যেমন বড় ব্যবসায়িক ক্ষতি, তেমনি সমর্থকদের জন্য চরম হতাশার।

রয়টার্সের তথ্যমতে, ভারতের রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং দ্য ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানির যৌথ উদ্যোগ ফিফাকে প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে এই অঙ্কটি যথাযথ নয়। অন্যদিকে সনি গ্রুপ কর্পোরেশন আলোচনায় অংশ নিলেও শেষ পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তর আমেরিকায় খেলা হওয়ায় ভারতীয় সময় অনুযায়ী ম্যাচগুলো গভীর রাতে পড়বে, যা বিজ্ঞাপন বাজার ও দর্শকসংখ্যা কমিয়ে দিতে পারে। ক্রিকেটের দেশে ফুটবলের বাণিজ্যিক আকর্ষণ কম হওয়াও আরেকটি বড় কারণ।

বিগত ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপের মাসখানেক আগেই চীনের রাষ্ট্রীয় মাধ্যম চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন(সিসিটিভি) প্রচার স্বত্ব নিশ্চিত করে প্রচারণা শুরু করেছিল। তবে এবারের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন পর্যন্ত দেশটির কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ফিফার চুক্তি সম্পন্ন হয়নি।

১১ জুন খেলা শুরু হতে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। এরই মধ্যে বিশ্বের ১৭৫টি অঞ্চলে স্বত্ব নিশ্চিত করেছে ফিফা। তবে ভারত ও চীনের বিষয়ে আলোচনা এখনও ঝুলে আছে। বিজ্ঞাপন সংস্থা ডেন্টসু ইন্ডিয়ার বিশেষজ্ঞ রোহিত পোতফোদে মনে করেন, এটি পুরোপুরি অচলাবস্থা নয়, বরং দাবার শেষ চালের মতো। তবে দ্রুত চুক্তি না হলে সম্প্রচার অবকাঠামো প্রস্তুত এবং বিজ্ঞাপন সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় সময় পাওয়া যাবে না।