বিপিএলের ফিক্সিংয়ের অভিযোগে শাস্তি পেলেন ক্রিকেটারসহ ৫ জন

বিসিবি
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ফিক্সিং তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করেছে বিসিবি। ৯০০ পৃষ্ঠার এক বিশাল তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পাঁচজন ক্রিকেটার, কর্মকর্তা ও ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে দেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, আইসিসি দুর্নীতি বিরোধী বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে মূলত জুয়া, ম্যাচ সংশ্লিষ্ট গোপনীয় তথ্য লেনদেন এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।
বিসিবির তদন্তে ঘরোয়া ক্রিকেটার অমিত মজুমদার এবং টিম ম্যানেজার রেজওয়ান কবির সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে সরাসরি জুয়া বা বাজি ধরার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া টিম ম্যানেজার মো. লাবলুর রহমান এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি সহ-মালিক মো. তৌহিদুল হক তৌহিদের বিরুদ্ধে তদন্তে অসহযোগিতা এবং তথ্য ও প্রমাণ মুছে ফেলে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযুক্ত এই চারজনকে বর্তমানে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য তাদের ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, বিপিএলের গত তিনটি আসরে (৯ম, ১০ম ও ১১তম) ম্যাচ সংশ্লিষ্ট দুর্নীতির সাথে যুক্ত থাকার দায়ে সামিনুর রহমান নামে এক ব্যক্তির ওপর স্থায়ী বহিষ্কারাদেশ (Exclusion Order) জারি করেছে বিসিবি। বিসিবির ইনটেগ্রিটি ইউনিটের তদন্তে উঠে এসেছে যে, তিনি দেশি-বিদেশি বেটিং সিন্ডিকেটের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং খেলোয়াড়দের দুর্নীতির প্রস্তাব দিতেন। অভিযুক্ত সামিনুর নিজের দোষ স্বীকার করে নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ফিক্সিং সন্দেহের কারণে গত নিলামে এনামুল হক বিজয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের মতো তারকাদের রাখা হয়নি। এবার বিসিবির এই কঠোর অবস্থানে প্রমাণিত হলো যে, টুর্নামেন্টকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। আপাতত এই বিষয়ে বিসিবি আর কোনো মন্তব্য করেনি।

প্রাইম রিপোর্ট
© 2026 প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।








