ট্রাম্পের নতুন অবরোধের জের: এবার বাব–এল–মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি ইরানের

ছবিঃ সংগৃহীত
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রপ্তানির অন্যান্য করিডরও বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
আইআরজিসির এই ঘোষণার আগে ইরান নতুন করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নতুন দফায় অবরোধ আরোপ করে এবং পরে হরমুজ প্রণালির আশপাশ ও ইরানের উপকূলীয় এলাকায় কয়েক ডজন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করে।
বুধবার প্রকাশিত বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ‘আঞ্চলিক জ্বালানি রপ্তানির সুবিধা হয় সবাই পাবে, না হয় কেউই পাবে না।’ বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান ইয়েমেনের মিত্র হুতি গোষ্ঠীর মাধ্যমে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব-এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
বাব-এল-মান্দেব প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। সৌদি আরবের তেল রপ্তানি এবং বৈশ্বিক সমুদ্রবাণিজ্যের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিচালিত হয়। ফলে হরমুজের পাশাপাশি এই প্রণালিও বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।
এরই মধ্যে ইরানের প্রেস টিভি জানিয়েছে, হুতিদের এক জ্যেষ্ঠ নেতা সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরব ইয়েমেনে হামলা অব্যাহত রাখলে তারা বাব-এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত। তাঁর দাবি, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
এদিকে হুতিরা অভিযোগ করেছে, সোমবার তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বিমানবন্দরে সৌদি আরব বোমা হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে তারা সৌদি আরবের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এতে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে গেছে।
হুতিরা এর আগেও লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গোষ্ঠীটি ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, গত এক সপ্তাহে ইরান সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এতে প্রায় এক ডজন নাবিক নিহত, নিখোঁজ বা আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, টানা সাত ঘণ্টার অভিযানে তারা হরমুজ প্রণালির আশপাশ এবং ইরানের উপকূলীয় এলাকায় কয়েক ডজন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর একদিন পর আইআরজিসি জানায়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অশুভ তৎপরতার অবসান না হওয়া পর্যন্ত’ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা বাহরাইনে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের কয়েকটি স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছে।
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে হরমুজ ও বাব-এল-মান্দেব—দুই কৌশলগত সমুদ্রপথই ঝুঁকির মুখে পড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রাইমটিভি/এমএইচ

ডেস্ক রিপোর্ট
© ২০২৬ প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।








