মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বর্তমানে অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েন রয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) সেন্টকম এ তথ্য জানায়। এর আগে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, আগামী কয়েক দিনে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আরও তীব্র হবে।

বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের উপকূল ও সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় থাকা বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে জোরালো হামলা চালানো হচ্ছে এবং তিনি থামার নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ অভিযান চলবে।

জ্বালানি স্থাপনায় হামলার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, সেগুলো আপাতত শেষের জন্য রাখা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত সেসব স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে।

তিনি আরও বলেন, হামলার মাত্রা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। তার ভাষায়, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে, যদি ইরান আলোচনায় না আসে। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের সামনে চুক্তি করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। তিনি জানান, সাক্ষাৎকার দেওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা আগেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।

ট্রাম্প বলেন, ইরান আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে এবং তাদের চুক্তি করাই উচিত, অন্যথায় দেশটির জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে চায়।

হরমুজ প্রণালিতে ফি আরোপের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর বড় অঙ্কের বিনিয়োগের আগ্রহের কারণে তিনি সেই ধারণা থেকে সরে এসেছেন। তার মতে, হরমুজ প্রণালি সবার জন্য খোলা থাকা প্রয়োজন, অন্যথায় অন্য দেশগুলোও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কার্যকর হওয়ার একমাত্র উপায় হলো সামরিক শক্তি প্রদর্শন। তিনি দাবি করেন, দুই দিন আগে একটি সমঝোতা হয়েছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে ইরান তা ভেঙে দেয়।

এর আগে মঙ্গলবার সেন্টকম জানায়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা দুর্বল করতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে। পরে তারা আরও জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে আবারও নৌ অবরোধ কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েন রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সংঘাত বন্ধ ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মঙ্গলবার দাবি করেছে, বাহরাইন ও কুয়েতে হামলা চালিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করেছে।

প্রাইমটিভি/এমআর