চলতি আগস্ট মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম পৌঁছেছে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ ডলারে। এতে মূল্যবান এই ধাতুটির প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর আগ্রহ আবারও বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে স্বর্ণের বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর পর নতুন করে দাম বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর জানুয়ারিতে রেকর্ড প্রায় ৫ হাজার ৫৯৫ ডলারে ওঠা স্বর্ণের দাম জুনে নেমে যায় ৪ হাজার ডলারের নিচে।

তখন তেলের দাম বাড়ায় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের পরিবর্তে নগদ অর্থ ও তারল্য ধরে রাখার দিকে ঝুঁকেছিলেন। একই সময়ে কিছু কেন্দ্রীয় ব্যাংক অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে সহায়তা করতে তাদের রিজার্ভ ব্যবহার করে।

স্বাধীন বিশ্লেষক রস নরম্যানের মতে, স্বর্ণের ওপর থাকা চাপ এখন অনেকটাই কমে এসেছে। চলতি মাসে ধাতুটির দাম দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ স্তর অতিক্রম করেছে। তেলের দাম কমে যাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে দুর্বল মুদ্রাস্ফীতির তথ্যও স্বর্ণের দাম বাড়াতে সহায়তা করছে। এতে ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়ার আশঙ্কাও কমেছে।

এইচএসবিসির প্রধান মূল্যবান ধাতু বিশ্লেষক জেমস স্টিল বলছেন, তেলের দাম আবার না বাড়লে এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির বড় ধরনের অবনতি না হলে স্বর্ণের দাম আরও বাড়ার পথই সহজ হতে পারে।

গত দুই সপ্তাহে স্বর্ণের দামে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার দেখা গেছে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সার্বভৌম সম্পদ তহবিলগুলো স্বর্ণ কিনছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। তবে এটিকে এখনো নিশ্চিত তথ্য নয়, অনুমান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

চীনসহ এশিয়ার বিভিন্ন বাণিজ্যকেন্দ্রে বড় বারের স্বর্ণের প্রিমিয়ামও নতুন করে চাহিদা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত সপ্তাহে চীনে প্রতি আউন্স স্বর্ণের প্রিমিয়াম ছিল ১ দশমিক ৫০ ডলার।

তবে স্বর্ণের দাম বাড়ার পথ পুরোপুরি মসৃণ নয়। ইরান যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা, গহনা ও মুদ্রার চাহিদা কমে যাওয়া এবং স্বর্ণ-সমর্থিত ইটিএফে বিনিয়োগের প্রবাহ কম থাকায় ঊর্ধ্বগতি সীমিত হতে পারে।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের প্রথমার্ধে স্বর্ণ-সমর্থিত ইটিএফগুলোতে নতুন বিনিয়োগ এসেছে মাত্র ৭ বিলিয়ন ডলার। অথচ এসব তহবিলের ব্যবস্থাপনায় থাকা মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫৮২ বিলিয়ন ডলার।

এদিকে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণেও স্বর্ণের দামে কিছুটা সতর্কতার সংকেত মিলছে। রিলেটিভ স্ট্রেংথ ইনডেক্স বা আরএসআই অনুযায়ী, স্বর্ণ স্বল্পমেয়াদে অতিরিক্ত কেনার পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। পাশাপাশি ২০০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজ, বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ৫০৪ ডলার, স্বর্ণের দামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ স্তর হিসেবে কাজ করছে।

প্রাইমটিভি/এনজি