পাকিস্তানের হয়ে আর কখনোই মাঠে দেখা যাবে না আমিরকে

ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের সাবেক লেফট আর্ম পেসার মোহাম্মদ আমির জাতীয় দলে ফেরার সব জল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন। আগামী বছরের আইসিসি ওডিআই বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হয়ে তার ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চললেও আমির স্পষ্ট জানিয়েছেন, পাকিস্তান অধ্যায় তার জন্য শেষ।
২০২৭ সালের আইসিসি বিশ্বকাপ দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
২০২৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দেন আমির। পরবর্তীতে স্ত্রী নার্জিস খানের মাধ্যমে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ও ব্রিটিশ পাসপোর্টও অর্জন করেন তিনি। ব্রিটিশ নাগরিক হওয়ার কারণে এখন পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে তাকে স্থানীয় নয়, বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ক্রিকেট ইউটিউবার ফুরকান ভাট্টির সঙ্গে আলাপকালে আমির জানান, ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেট ও দ্য হান্ড্রেডের মতো ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে খেলতে হলে একটি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করতে হয়। সেখানে উল্লেখ থাকে, স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে অন্য কোনো দেশের হয়ে খেলা যাবে না।
আমির বলেন, ‘আমি এখন ব্রিটিশ স্থানীয় খেলোয়াড়। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ও দ্য হান্ড্রেডের মতো প্রতিযোগিতায় স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে খেললে একটি নথিতে স্বাক্ষর করতে হয়, যেখানে বলা থাকে যে আপনি অন্য কোনো দেশের হয়ে স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে খেলতে পারবেন না। তাই পাকিস্তানের যে অধ্যায় ছিল, সেটি এখন বন্ধ।’
২০০৯ সালে পাকিস্তানের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় আমিরের। জাতীয় দলের হয়ে তিনি ৩৬টি টেস্ট, ৬১টি ওয়ানডে ও ৬২টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। তিন সংস্করণ মিলিয়ে তার শিকার ২৭১ উইকেট—টেস্টে ১১৯, ওয়ানডেতে ৮১ এবং টি-টোয়েন্টিতে ৭১টি।
বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হয়ে তিনটি আসরে অংশ নিয়েছেন আমির। ২০০৯ ও ২০১০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও খেলেছেন তিনি। ২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আমির। সাত ম্যাচে নেন ছয় উইকেট। পরের আসর ২০১০ বিশ্বকাপে ছয় ম্যাচে তার শিকার ছিল আট উইকেট।
২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে আমির ছিলেন পাকিস্তানের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। আট ম্যাচে ১৭ উইকেট নেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তার ক্যারিয়ারসেরা বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সগুলোর একটি দেখা যায়—সেবার ৩০ রানে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন।
২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক শিরোপা জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন আমির। ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে তার দুর্দান্ত বোলিং পাকিস্তানের জয়ে বড় ভূমিকা রাখে। ছয় ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন আমির। তার শিকার ছিলেন ভারতের শীর্ষ তিন ব্যাটার—রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি ও শিখর ধাওয়ান।
আমিরের সেই স্পেলে ভারত ১৫৮ রানে অলআউট হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান ১৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপা ঘরে তোলে।
প্রাইমটিভি/এআই

ডেস্ক রিপোর্ট
© ২০২৬ প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।








