মাগুরার শ্রীপুরে সিআইডি পুলিশের সদস্য পরিচয়ে এক নারীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে নারীসহ সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে সিআইডি লেখা চারটি জ্যাকেট, একটি খেলনা পিস্তল, আটটি মোবাইল ফোন এবং একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার নাকোল গ্রামের পশ্চিমপাড়া থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পাগলা কানাই এলাকার আসমা খাতুন, ওসমান গনি, সাব্বির হোসেন, পবহাটি এলাকার হাসানুজ্জামান হাসান, আরাপপুর এলাকার সালমান শাহ, আড়মুখ গ্রামের সাকিব হোসেন এবং মাগুরার শালিখা উপজেলার দোবিলা গ্রামের আল আমিন হোসেন।

বুধবার দুপুরে মাগুরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন এসব তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার বলেন, মঙ্গলবার রাতে নাকোল এলাকায় একটি মাইক্রোবাসের সন্দেহজনক চলাচল পুলিশের নজরে আসে। পরে গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হলে সিআইডি লেখা চারটি জ্যাকেট ও একটি খেলনা পিস্তল পাওয়া যায়। এ সময় আটটি মোবাইল ফোনসহ মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, আটক সাতজন সিআইডি পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে নাকোল গ্রামের শ্রাবণী নামের এক নারীকে অপহরণ করতে এসেছিলেন। তারা ঝিনাইদহ থেকে মাইক্রোবাসে করে নাকোলে আসেন।

পুলিশ জানায়, প্রায় এক বছর আগে শ্রাবণীর সঙ্গে নাকোল গ্রামের মোস্তাক নামে এক যুবকের বিয়ে হয়। পরে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হলে তিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পাগলা কানাই এলাকার শিমুল নামে আরেক যুবককে বিয়ে করেন। তবে প্রায় এক সপ্তাহ আগে প্রথম স্বামী মোস্তাক শ্রাবণীকে দ্বিতীয় স্বামী শিমুলের কাছ থেকে নিয়ে আসেন।

এরপর শ্রাবণীকে ফিরে পেতে শিমুল অপহরণের পরিকল্পনা করেন বলে দাবি পুলিশের। এ জন্য পাঁচ লাখ টাকার চুক্তিতে আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। চুক্তি অনুযায়ী, সিআইডির জ্যাকেট ও খেলনা পিস্তল নিয়ে শ্রাবণীকে তুলে নিতে নাকোলে আসেন তারা।

এ ঘটনায় আটক সাতজনের পাশাপাশি শ্রাবণীর দ্বিতীয় স্বামী শিমুলের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছে। পরে আটক ব্যক্তিদের শ্রীপুর থানায় সোপর্দ করা হয়। মামলার পর তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রাইমটিভি/এনজি