যৌতুক না দেওয়ায় বিয়েতে আসেনি বর

ছবি: সংগৃহীত
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নে যৌতুক না দেওয়ার অভিযোগে বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন হওয়ার পরও কনেকে নিতে আসেনি বর।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন কনের বাবা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের চক পলাশবাড়ী এলাকার শাহ আলমের মেয়ের সঙ্গে তারাগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়ালকুঠি ইউনিয়নের সর্দারপাড়ার আবদুল হালিম শাহের ছেলে মিলন মিয়ার বিয়ে ঠিক হয়েছিল। গত রোববার (১২ জুলাই) বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল। সে অনুযায়ী কনেপক্ষ বিয়ের আসর সাজানো, রান্নাবান্নাসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। কিন্তু নির্ধারিত দিনে বরপক্ষ থেকে কেউ বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়নি।
কনের বাবা শাহ আলমের দাবি, শেষ মুহূর্তে বরপক্ষ বিয়ে করতে হলে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক এবং ঘরের আসবাবপত্র বাবদ আরও তিন লাখ টাকা দাবি করে। তিনি বলেন, মেয়ের গায়ে হলুদ পর্যন্ত হয়ে গেছে, অথচ যৌতুক না দেওয়ায় বরপক্ষ বিয়ে ভেঙে দিয়েছে। এতে তাদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সামাজিকভাবেও অপমানের মুখে পড়তে হয়েছে।
কনের ভগ্নিপতিও অভিযোগ করেন, বিয়ের সব কেনাকাটা ও প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর গাড়ি পাঠানোর কথা থাকলেও বরপক্ষ জানিয়ে দেয়, যৌতুক ছাড়া তারা বিয়ে করতে আসবে না। পরে অসহায় হয়ে প্রশাসনের শরণাপন্ন হয় মেয়ের পরিবার।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বরের বাবা আবদুল হালিম শাহ। তার দাবি, তারা কোনো যৌতুক চাননি। বরং এক লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণের কথা বললেও কনের পরিবার পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহর চেয়েছিল। এ কারণেই ছেলে বিয়েতে যায়নি। তবে কনের পরিবার ক্ষতিপূরণ দাবি করলে তা দিতে রাজি আছেন বলেও জানান তিনি।
তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোনাব্বের হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হাড়িয়ালকুঠি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাড়িয়ালকুঠি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কুমারেশ রায় জানান, দুই পক্ষের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। দ্রুত বিষয়টির সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রাইমটিভি/এমআর

ডেস্ক রিপোর্ট
© ২০২৬ প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।







