হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। ঘটনায় আরও আটজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় দুজন ইউক্রেনের নাগরিক। আহত চারজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে সংঘটিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি একে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

অন্যদিকে হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) তাদের দাবি, ট্যাংকার দুটি সতর্কবার্তা অমান্য করে নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ রেখে মাইন পাতা একটি পথে প্রবেশের চেষ্টা করায় হামলা চালানো হয়েছে।

ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে পুনরায় নৌ অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত সব পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। নিজেকে হরমুজ প্রণালিরঅভিভাবকদাবি করে তিনি বলেন, প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যয় মেটাতে মঙ্গলবার রাত থেকেই এসব ব্যবস্থা কার্যকর হবে।

এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা দুর্বল করতে তারা বুশেহর, বান্দার আব্বাসসহ ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সেনাবাহিনী কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

মার্কিন শুল্ক আরোপের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালির প্রকৃত অভিভাবক অতীতেও ইরান ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।

এদিকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির মতো আন্তর্জাতিক নৌপথে বাধ্যতামূলক টোল বা শুল্ক আরোপের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে সামরিক সংঘাত, নৌ অবরোধ এবং শুল্ক আরোপের ঘোষণায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রাইমটিভি/এমআর