যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সব বন্দরে পুনরায় নৌ অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে টানা চতুর্থ রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান আলোচনায় না ফিরলে আগামী সপ্তাহে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে আরও হামলা চালানো হবে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার সক্ষমতা দুর্বল করতেই নতুন এই অভিযান চালানো হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস ও সিরিকের কাছাকাছি একাধিক স্থানে হামলা হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, দক্ষিণ ইরানে মার্কিন হামলায় একজন পার্ক রেঞ্জারের পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন।

এদিকে তেহরান দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে তারা আবারও হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। এতে কয়েক মাসের সংঘর্ষের পর প্রতিষ্ঠিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে।

অন্যদিকে বুধবার (১৫ জুলাই) ভোরে ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, তারা জর্ডানের আজরাক ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন অবস্থান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এছাড়া ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর বাহরাইন ও কুয়েতের অস্ত্র ও সামরিক গুদামেও হামলার দাবি করেছে। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স।

এদিকে দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা প্রতিহত করতে কুয়েতকে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ব্যবহার করা হয়েছে।

কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের হামলায় দেশটির একটি নৌযানে চার সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় নতুন করে বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়ে উঠছে।

সূত্র: প্রেস টিভি

প্রাইমটিভি/এনজি