যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চলবে বলে মনে করেন প্রতি পাঁচজন আমেরিকানের মধ্যে চারজন। সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পারস্য উপসাগরে ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ পুনর্বহালের ঘোষণা দেওয়ার পর রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

রোববার শেষ হওয়া তিন দিনের ওই জরিপে দেখা গেছে, ৭৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততা ‘দীর্ঘ সময় ধরে চলবে’। গত মার্চের শেষ দিকে একই ধরনের জরিপে এ হার ছিল ৬৫ শতাংশ। বিপরীতে, মাত্র ১৮ শতাংশ মনে করেন যুদ্ধটি ‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দ্রুত শেষ হয়ে যাবে’

জরিপে অংশ নেওয়া ৩৭ শতাংশ উত্তরদাতা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে গত ২৬ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র আবারও এসব সামরিক অভিযান শুরু করে।

সারা যুক্তরাষ্ট্রে ১ হাজার ১৯ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে এই জরিপ পরিচালিত হয়। এর সম্ভাব্য ত্রুটির সীমা ছিল প্রায় ৪ শতাংশ।

সোমবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরে ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ পুনর্বহাল করছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী সব পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ অর্থ আদায় করা হবে। এর আগে তেহরান জানায়, তারা গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ করে দিয়েছে। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পাল্টাপাল্টি ঘটনা ঘটে।

সাম্প্রতিক এই সংঘাত গত মাসে হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ওই চুক্তির লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা এবং পরবর্তী ৬০ দিনের আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা। তবে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি যুদ্ধবিরতিকে কার্যত শেষ বলে মনে করেন, যদিও ভবিষ্যতে আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি।

জরিপে অংশ নেওয়া ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এই যুদ্ধের কারণে আগামী এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম আরও বাড়বে। আর অর্ধেক উত্তরদাতা মনে করেন, যুদ্ধের যে মূল্য দিতে হচ্ছে, তার তুলনায় এর কোনো যৌক্তিকতা নেই।

সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে। রিপাবলিকান কৌশলবিদদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের করছাড় নীতির রাজনৈতিক সুবিধা অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির উচ্চ মূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ওই নির্বাচনে দলটি প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পাশাপাশি সিনেটেও নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কায় রয়েছে।

প্রাইমটিভি/এমএইচ