ভোজশালা–কামাল মৌলা মসজিদ বিরোধকে ‘সংবেদনশীল’ উল্লেখ করে ভোজশালা প্রাঙ্গণে জুমার নামাজ পুনর্বহালের অন্তর্বর্তীকালীন আবেদন নাকচ করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মুসলিম পক্ষের করা আপিল শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, তারা মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ভোজশালাকে মন্দির ঘোষণা করে দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আবেদন গ্রহণ করেছে এবং প্রয়োজনে প্রতিদিন শুনানি চালিয়ে দ্রুত এ বিরোধ নিষ্পত্তি করতে প্রস্তুত।

একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আদালতের অনুমতি ছাড়া ভোজশালা প্রাঙ্গণে ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ (এএসআই) কোনো ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন করতে পারবে না।

আপাদতত মধ্যপ্রদেশ সরকারকে ভোজশালার সংলগ্ন একটি খোলা জায়গা নির্ধারণ করে সেখানে প্রতি শুক্রবার দুপুর ১টা থেকে ৩টার মধ্যে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

মুসলিম পক্ষ চলতি বছরের মে মাসে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের দেওয়া রায়কে চ্যালেঞ্জ করেছে। ওই রায়ে ভোজশালাকে একটি মন্দির হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ২০০৩ সালে এএসআই জারি করা সেই আদেশ বাতিল করা হয়, যার মাধ্যমে মুসলিমদের প্রতি শুক্রবার সেখানে জুমার নামাজ আদায়ের অনুমতি ছিল।

হাইকোর্ট তার রায়ে উল্লেখ করে, ভোজশালায় প্রাচীন সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র এবং দেবী সরস্বতীর একটি মন্দির থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবি, ভোজশালা মূলত বিদ্যাদেবী সরস্বতীর মন্দির, যা পণ্ডিত-রাজা রাজা ভোজ নির্মাণ করেছিলেন। অন্যদিকে মুসলিম পক্ষের দাবি, স্থানটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কামাল মৌলা মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

২০০৩ সালে এএসআইর নির্ধারিত ব্যবস্থায় হিন্দুরা প্রতি মঙ্গলবার এবং মুসলিমরা প্রতি শুক্রবার ওই স্থানে ধর্মীয় আচার পালন করতেন। পরে হিন্দু পক্ষ আদালতে একক উপাসনার অধিকার দাবি করে আবেদন জানায়।

এর আগে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ভোজশালা–কামাল মৌলা মসজিদ কমপ্লেক্সে বৈজ্ঞানিক জরিপের নির্দেশ দেয়। ওই বছরের ২২ মার্চ এএসআই জরিপ শুরু করে এবং ৯৮ দিনের বিস্তারিত তদন্ত শেষে আদালতে ২ হাজার পৃষ্ঠারও বেশি একটি প্রতিবেদন জমা দেয়।

এএসআইর প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান বিতর্কিত স্থাপনার আগে সেখানে ধার অঞ্চলের পারমার রাজাদের আমলের একটি বৃহৎ স্থাপনা ছিল এবং বর্তমান কাঠামোটি মন্দিরের বিভিন্ন উপাদান পুনর্ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছে।

হিন্দু পক্ষের দাবি, এএসআইর জরিপে উদ্ধার হওয়া মুদ্রা, ভাস্কর্য ও শিলালিপি প্রমাণ করে যে স্থানটি মূলত একটি মন্দির ছিল।

তবে মুসলিম পক্ষ আদালতে দাবি করেছে, এএসআইর জরিপ প্রতিবেদন পক্ষপাতদুষ্ট এবং হিন্দু আবেদনকারীদের দাবিকে সমর্থন করার উদ্দেশ্যেই এটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রাইমটিভি/এমএইচ