কয়েক দিন আগেই নেপালে আকস্মিক বন্যায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৭২ জন। ভয়াবহ এই দুর্যোগের পেছনে হিমালয়ের দ্রুত বরফ গলে যাওয়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষকদের মতে, হিমালয়ের ৪ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতায় এখন অনেক সময় তুষারের পরিবর্তে সরাসরি বৃষ্টি হচ্ছে। এতে পাহাড়ি নদীগুলোতে হঠাৎ পানির প্রবাহ বেড়ে গিয়ে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে।

তবে নেপালের এই বিপর্যয়ের আশঙ্কা কয়েক মাস আগেই প্রকাশ করা হয়েছিল। প্রায় পাঁচ মাস আগে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা আইসিআইএমওডি সতর্ক করে জানিয়েছিল, হিমালয়ের বরফ আগের তুলনায় দ্বিগুণ গতিতে গলছে।

গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে হিমালয়ের হিমবাহগুলো প্রায় ১২ শতাংশ এলাকা এবং ৯ শতাংশ বরফ হারিয়েছে। আর ১৯৭৫ সাল থেকে হিসাব করলে অঞ্চলটির প্রায় ২৭ মিটার পুরু বরফের স্তর গলে গেছে।

হিমালয়ের এই বরফ এশিয়ার অন্যতম প্রধান পানির উৎস। ভারত, নেপাল, চীন ও ভুটানসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ২০০ কোটি মানুষ পানীয় জল, কৃষি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য হিমালয় থেকে নেমে আসা নদীগুলোর ওপর নির্ভরশীল।

তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বরফ গলে পাথুরে ভূমি উন্মুক্ত হচ্ছে। এসব পাথর সূর্যের তাপ বেশি শোষণ করায় উষ্ণতা আরও বাড়ছে, যা হিমবাহ গলনের গতি ত্বরান্বিত করতে পারে।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, উচ্চ পাহাড় থেকে বরফ ও পাথরের বিশাল ধস নদীতে পড়ে পানির প্রবাহ হঠাৎ বাড়িয়ে দেওয়ার কারণেই নেপালে এমন প্রলয়ঙ্করী ঢল সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।

হিমালয়ের দ্রুত বরফ গলে যাওয়ার এই চিত্র শুধু নেপাল নয়, পুরো এশিয়া এবং বিশ্বের জন্যই বড় ধরনের জলবায়ু সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: এনডিটিভি

প্রাইমটিভি/এনজি