অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্র সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর অসহযোগিতা ছিল বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারও অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘৩৬ জুলাইয়ের অবদান বিতর্ক ও ব্যর্থতার দায় পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্র সংস্কার, রাজনৈতিক ঐক্য এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন-ব্যর্থতা নিয়ে এই সংলাপের আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি।

আসিফ মাহমুদ বলেন, জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর আস্থা রাখা তাঁদের অন্যতম বড় ভুল ছিল। ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতা থাকলেও জাতীয় রাজনীতির বাস্তবতা সম্পর্কে শুরুতে সঠিক ধারণা ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর ভরসা করলেও পরে সেই আস্থার প্রতিদান পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল আর করা হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে ধারাবাহিক অসহযোগিতা করা হয়েছে। সরকার কোনো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিতে গেলেই বিভিন্ন পক্ষ চাপ সৃষ্টি করত, যার ফলে অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ে।

রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের উদ্যোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগের সময়ও সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং সহযোগিতা না করার বার্তা দেওয়া হয়েছিল। তবে এসব পরিস্থিতিতেও অন্তর্বর্তী সরকারের আরও কঠোর ও সাহসী হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।

আসিফ মাহমুদ বলেন, রাজনৈতিক ঐক্য ধরে রাখা এবং সব দলকে সঙ্গে নিয়ে চলার চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সম্মিলিতভাবে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। এ ব্যর্থতার দায় নিজের পাশাপাশি সরকারের অন্য সদস্যদেরও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি জানান, শুরুতে সংবিধান পুনর্লিখনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের পরিকল্পনা থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার প্রয়োজনে সেই অবস্থান থেকে ধাপে ধাপে সংস্কার এবং পরে সংশোধনের পর্যায়ে আসতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জনগণের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় এনসিপি তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবে।

সংলাপে আরও বক্তব্য দেন কবি ও রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজহার, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা শারমিন এস. মুরশিদ, আইনজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবু হেনা রাজ্জাকী এবং এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

প্রাইমটিভি/এমআর