সিরাজগঞ্জে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় চালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অটোরিকশার আরও এক যাত্রী। তাকে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরে সিরাজগঞ্জ-নলকা আঞ্চলিক মহাসড়কের সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের বহুতি বটতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার কালিঞ্জা গ্রামের গুতু রাজবংশীর ছেলে ঠাকুর হালদার (৭০) এবং কামারখন্দ উপজেলার কুঠিরচর গ্রামের আলী আকতার ফকিরের ছেলে ও অটোরিকশাচালক আশিক (৩৫)।

আহত বিষ্ণ হালদার নিহত ঠাকুর হালদারের ছেলে। তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার ভোরে মাছ ধরার জন্য জাল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন ঠাকুর হালদার ও তার ছেলে বিষ্ণ হালদার। পরে তারা কামারখন্দ উপজেলার বাজার ভদ্রঘাট এলাকা থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সিরাজগঞ্জ শহরের দিকে যাচ্ছিলেন।

পথে অটোরিকশাটি সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের বহুতি বটতলা এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই অটোরিকশাচালক আশিক ও যাত্রী ঠাকুর হালদারের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন ঠাকুর হালদারের ছেলে বিষ্ণ হালদার। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

নিহত অটোরিকশাচালক আশিকের ভাতিজা ইসমাইল হোসেন বলেন, ভোরে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন তার চাচা। সকাল ৬টার দিকে পরিবারের সদস্যরা দুর্ঘটনার খবর পান। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা জানতে পারেন, দুর্ঘটনায় আশিক মারা গেছেন।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম শুক্রবার বিকেলে দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন এবং বিষ্ণ হালদার নামে আরও একজন আহত হয়েছেন। তাকে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্বজনরা নিহতদের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।