পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে ১১ বছর বয়সী এক মুসলিম শিশুকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তোলপাড়ের মাঝেই চাঞ্চল্যকর মোড়। উত্তরপ্রদেশ স্টাইলে পুলিশি এনকাউন্টারে নিহত হয়েছেন ঘটনার মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল।

ঘটনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বুধবার (৮ জুলাই) সকালে পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। গত রবিবার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে স্থানীয় জনতা তাঁকে আটকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিল।

বারুইপুর জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ১টা নাগাদ ঘটনার তদন্ত ও পুনর্নির্মাণের জন্য ধৃত প্রভাস মণ্ডলকে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের দাবি, গাড়ি থেকে নামানোর পরপরই প্রভাস আচমকা এক পুলিশ কর্মীর সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালাতে চালাতে পালানোর চেষ্টা করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে তাকে সতর্ক করে। তবে সে না থামায় এবং পাল্টা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোয়, আত্মরক্ষার্থে পুলিশও বাধ্য হয়ে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রভাসকে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই এনকাউন্টারের ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে এবং নিয়ম অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের সম্ভাবনা রয়েছে।

পুলিশি জেরায় প্রভাস বারবার অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য দিয়ে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল বলে জানা গেছে। তবে কঠোর জেরার মুখে সে স্বীকার করে যে, মাত্র ১০ হাজার টাকার টোপ দিয়ে ওই নাবালিকাকে তুলে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট এবং অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, নাবালিকার ওপর চরম নির্যাতন চালানোর পর অচেতন অবস্থায় তাকে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।

এদিকে, মঙ্গলবার রাতে এই নৃশংস মামলার চতুর্থ তথা শেষ পলাতক অভিযুক্ত কবীর মোল্লাকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ফলে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজনই এখন পুলিশের জালে, যার মধ্যে মূল অভিযুক্ত এনকাউন্টারে নিহত।

গত রবিবার সকালে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকার একটি পুকুর থেকে ১১ বছর বয়সী ওই নাবালিকার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার হয়। এরপরই তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় জনতা। দোষীদের ফাঁসির দাবিতে রেল অবরোধ, পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর এবং পুলিশের ওপর দফায় দফায় হামলার ঘটনা ঘটে। উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করলে সন্দেহের বশে গণপিটুনিতে এক নির্দোষ ব্যক্তিরও মৃত্যু হয়।

পুলিশের ওপর হামলা ও আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এ পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় ব্যাপক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে। পুরো এলাকা জুড়ে থমথমে ভাব বিরাজ করছে।

 প্রাইমটিভি/এমআর