ক্লান্তিহীন যান্ত্রিক জীবন আর ইট-পাথরের ধূসর ব্যস্ততা ভুলে বৃষ্টির দিনে প্রকৃতির একটু সতেজ ছোঁয়া পেতে রাজধানীর রমনা পার্কে জমে ওঠে প্রকৃতিপ্রেমীদের শান্ত ভিড়। টুপটুপ শব্দে ঝরা বৃষ্টি আর সবুজ গাছের পাতার গন্ধে যেন পুরো উদ্যান এক নতুন প্রাণ ফিরে পায়।

বৃষ্টির ছোঁয়ায় ঢাকা শহরের ‘ফুসফুস’ হিসেবে পরিচিত ৬৮.৫০ একরের এই রমনা উদ্যান সাজে এক নতুন রূপকথা। মেহগনি, কৃষ্ণচূড়া, বট ও হিজল গাছের সবুজ পাতাগুলো ধুয়ে মুছে হয়ে ওঠে আরও সজীব। পার্কের কেন্দ্রে থাকা লেকের ওপর যখন বৃষ্টির প্রতিটা ফোটা পড়ে ছোট ছোট ঢেউ সৃষ্টি করে, সেই দৃশ্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ না করে পারে না। লেকের চারপাশের কাঠের হাঁটার পথ বা সবুজ ঘাসের ওপর ছাতা মাথায় ধীর পায়ে হেঁটে চলা কিংবা লেকের পারের বেঞ্চে বসে রিমঝিম বৃষ্টির শব্দ শোনা যেন এক অন্যরকম অনুভূতি।

বৃষ্টির দিনে কোলাহল কিছুটা কম থাকায় শহরের যান্ত্রিকতা থেকে দূরে একান্তে সময় কাটানোর অপূর্ব সুযোগ মেলে এখানে। অনেককে দেখা যায় ছাতা মাথায় নিয়ে বৃষ্টির সুবাস আর ফুরফুরে হাওয়া উপভোগ করতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বৃষ্টির দিনে রমনার এই নিস্তব্ধ আর স্নিগ্ধ পরিবেশ মনকে প্রফুল্ল করে তোলে। মনে হয় যেন ঢাকার বাইরে কোনো শান্ত পাহাড়ি গাঁয়ে চলে এসেছি।

বর্ষার এই ভেজা রূপ রমনা পার্ককে কেবল একটি বিনোদন কেন্দ্র নয়, বরং যান্ত্রিক নগরে ক্লান্ত মানুষের জন্য এক পশলা শান্তি ও মানসিক প্রশান্তির সুনির্দিষ্ট ঠিকানা বানিয়ে দেয়।