চার বছর পর পর ফিরে আসে ফুটবল বিশ্বকাপ। ফলে প্রিয় দলের বিদায় বা হার সমর্থকদের কাছে কেবল একটি নির্দিষ্ট ম্যাচের পরাজয় নয় বরং গভীর ব্যক্তিগত হতাশা ও মানসিক ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার মতো বিশ্বজুড়ে বিশাল সমর্থকগোষ্ঠী থাকা দলের হারে ভক্তরা ভেঙে পড়েন। কেউ হয়তো বিষাদে ডুবে থাকেন, কেউবা সোশ্যাল মিডিয়া এড়িয়ে চলেন, আবার কেউ দিনের পর দিন সেই হারের স্মৃতি নিয়েই কষ্ট পান।

প্রিয় দল বা প্রিয় খেলোয়াড়ের সঙ্গে ভক্তদের বছরের পর বছর ধরে একধরনের গভীর মানসিক ও আবেগীয় সংযোগ গড়ে ওঠে। ফলে মাঠে তাদের জয় কিংবা পরাজয় সমর্থকদের বাস্তব জীবনের মানসিক অবস্থায় সরাসরি প্রভাব ফেলে। তবে ফুটবলের আসল সৌন্দর্যই হলো এর অনিশ্চয়তা। আজকের হারই হতে পারে আগামী দিনের ঘুরে দাঁড়ানোর সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।

আর্জেন্টিনার বিদায় বা হারের এই কঠিন সময়ে মানসিক চাপ ও হতাশা দূর করতে মেনে চলতে পারেন কিছু সহজ ও কার্যকর উপায়:

১. নিজের পছন্দের কাজে মন দিন

একটি ম্যাচের ফল নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আফসোস করার চেয়ে নিজের প্রিয় ও মানসিক প্রশান্তিদায়ক কাজে সময় দেওয়া অনেক বেশি কার্যকর। পছন্দের গান শুনুন বা ভালো কোনো সিনেমা দেখুন। বই পড়তে পারেন কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আড্ডায় সময় কাটান। একটু বাইরে থেকে ঘুরে আসতে পারেন। এসব ছোট ছোট পদক্ষেপ মন ভালো রাখতে এবং আবেগ সামলাতে বড় ভূমিকা রাখে।

নিজের পছন্দের কাজে মন দিন

২. সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রল ও চাপ এড়িয়ে চলুন

বড় কোনো ম্যাচে পছন্দের দল হারলে ফেসবুক, এক্স (টুইটার) বা ইনস্টাগ্রামে প্রতিপক্ষের ট্রল, মিম ও খোঁচাখুঁচি বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। আবেগের বশে এসবের জবাব দিতে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় তর্কে জড়ানোর কোনো দরকার নেই। প্রয়োজনে এক বা দুই দিনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ডিজিটাল ডিটক্স বা বিরতি নিন। এতে অযাচিত মানসিক চাপ থেকে রেহাই মিলবে।

সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রল ও চাপ এড়িয়ে চলুন

৩. গঠনমূলক ও ইতিবাচক আলোচনা

ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে খেলা নিয়ে মতভেদ থাকবেই। তবে খেয়াল রাখবেন, খেলার মাঠের তর্ক যেন ব্যক্তিগত সম্পর্কে ফাটল না ধরায়। কাদা ছোড়াছুড়ি না করে ম্যাচের কৌশল, দলীয় পারফরম্যান্স বা টুর্নামেন্টের সুন্দর দিকগুলো নিয়ে কথা বলুন। মনে রাখবেন, ফুটবল মানুষকে বিচ্ছিন্ন করতে নয়, বরং এক সুতোয় গাঁথতেই এসেছে।

গঠনমূলক ও ইতিবাচক আলোচনা

৪. দলের অর্জিত ভালো মুহূর্তগুলো উদযাপন করুন

একটিমাত্র পরাজয়ে পুরো টুর্নামেন্টের অর্জিত সুফল বা স্মৃতি মুছে যায় না। মেসি কিংবা আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত কোনো গোল, ম্যাচের স্মরণীয় কোনো মুহূর্ত অথবা দলীয় লড়াইয়ের কথা মনে করুন। পুরোনো সেই ভালো লাগার ভিডিওগুলো আবার দেখতে পারেন। এতে হতাশার বদলে মনে ইতিবাচক অনুভূতির সঞ্চার হবে।

দলের অর্জিত ভালো মুহূর্তগুলো উদযাপন করুন

৫. প্রতিপক্ষের সাফল্যকে সম্মান জানানো

খেলায় জয়-পরাজয় থাকবেই। প্রতিপক্ষ যদি সত্যি ভালো খেলে জয় ছিনিয়ে নেয়, তবে তা মেনে নেওয়াই স্পোর্টসম্যানশিপ বা ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার সেরা পরিচয়। ভালো ফুটবলের প্রশংসা করতে পারা একজন সচেতন ও পরিণত সমর্থকের বৈশিষ্ট্য।

প্রতিপক্ষের সাফল্যকে সম্মান জানানো

ফুটবলে কোনো দলই সবসময় অপরাজেয় থাকে না। বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তি ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স কিংবা স্পেন সব দলকেই কোনো না কোনো সময় বিশ্বকাপ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে বিদায় নিতে হয়েছে। আবার তুলনামূলক ছোট দলগুলোও রচনা করেছে রূপকথার ইতিহাস। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেও ফুটবলকে পৃথিবীর সবচেয়ে রোমাঞ্চকর খেলা হিসেবে ধরা হয়।

বিশ্বকাপ শেষ হলেও ফুটবলের যাত্রা থেমে থাকে না। সামনেই অপেক্ষা করছে বিভিন্ন ক্লাব লিগ, মহাদেশীয় টুর্নামেন্ট ও আন্তর্জাতিক ম্যাচ। আজ যে দল হেরেছে, কাল তারাই নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে শিরোপা উঁচিয়ে ধরতে পারে। ফুটবলের পুরো ইতিহাসই এমন মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তনের গল্পে ভরা। তাই জয়ের মতো পরাজয়কেও খেলার অংশ হিসেবে মেনে নেওয়াই একজন খাঁটি ফুটবলপ্রেমীর পরিচয়।

প্রাইমটিভি/এনজি