ভারতে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি চালুর সরকারি নীতিকে ঘিরে আবারও রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। এ নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

শনিবার (২ আগস্ট) আয়োজিত এক জাতীয় গণশুনানিতে তিনি জানান, আগামী ৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে গিয়ে দুই লাখের বেশি মানুষের স্বাক্ষরসংবলিত একটি আবেদনপত্র জমা দেবেন। এ উপলক্ষে রাজধানী দিল্লিতে একটি মিছিলও অনুষ্ঠিত হবে।

কেজরিওয়ালের দাবি, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। তিনি বলেন, সরকারের দাবি যদি সত্যিই হয় যে এই জ্বালানি সম্পূর্ণ নিরাপদ, তাহলে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে জনসম্মুখে খোলামেলা আলোচনা আয়োজন করা উচিত। তবে সরকার এ বিষয়ে প্রকাশ্য বিতর্ক এড়িয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় তার সঙ্গে এমন একশ জন থাকবেন, যারা গ্রেফতার বা লাঠিচার্জের আশঙ্কা উপেক্ষা করে আন্দোলনে অংশ নিতে প্রস্তুত।

তবে কেজরিওয়ালের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি । দিল্লি বিজেপির সভাপতি হর্ষ মালহোত্রা বলেন, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির কারণে গাড়ির ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এমন অন্তত ১০০টি ঘটনার প্রমাণ কেজরিওয়ালকে উপস্থাপন করতে হবে।

ভারতে ধাপে ধাপে পেট্রোলে ইথানলের পরিমাণ বাড়ানোর সরকারি নীতি নিয়ে কয়েক মাস ধরেই বিতর্ক চলছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এতে জ্বালানি খরচ বাড়তে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, এ নীতি পরিবেশবান্ধব এবং বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক।

এদিকে কেজরিওয়াল অভিযোগ করেছেন, ইথানল নীতির পেছনে শুধু পরিবেশগত কারণ নয়, অন্য স্বার্থও কাজ করছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বাণিজ্যিক সমঝোতার কারণেও সরকার দ্রুত এ নীতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে তিন দফা দাবি জানিয়েছেন কেজরিওয়াল। তার দাবিগুলো হলো, প্রতিটি পেট্রোলপাম্পে সাধারণ পেট্রোল ও ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি উভয় ধরনের জ্বালানি রাখার ব্যবস্থা করা, পেট্রোলের দাম কমানো এবং ইথানলের মূল্য হ্রাস করা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইথানল ইস্যু এখন শুধু জ্বালানি নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনৈতিক নীতি, মূল্যস্ফীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হচ্ছে।

এদিকে ৪ আগস্টের কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের ইঙ্গিত দিয়েছে প্রশাসনিক সূত্র। অতীতের মতো এবারও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অভিমুখে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশি বাধা বা গ্রেফতারের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রাইমটিভি/এনজি