ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে খুঁজে বের করতে অভিযান জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল। ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য সানডে টাইমস দাবি করেছে, এই অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং ইসরায়েলের মোসাদ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে আসেননি। তার অবস্থান শনাক্ত করতে যৌথভাবে এবং আলাদাভাবেও কাজ করছে দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থা। তবে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। বিভিন্ন প্রতিবেদনে কোথাও তাকে সামান্য আহত, আবার কোথাও গুরুতর আহত এবং মুখ বিকৃত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।

দ্য সানডে টাইমসের দাবি, মোজতবা খামেনি বর্তমানে একটি ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে অবস্থান করছেন। গত ১৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে তিনি কোনো ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার করেননি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দিনের বেলায় বাঙ্কারের বাইরে যেতে তিনি ভয় পান, কারণ মার্কিন গোয়েন্দা উপগ্রহের মাধ্যমে শনাক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিবেদনটি আরও জানায়, আলি খামেনির অবস্থান শনাক্ত করতে আগে তেহরানের ট্রাফিক ক্যামেরাসহ বিভিন্ন সাইবার কৌশল ব্যবহার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল। তবে মোজতবার ক্ষেত্রে সেই ধরনের কোনো নিরাপত্তা দুর্বলতা পাওয়া যায়নি। ফলে এখন ইরানের অভ্যন্তরে থাকা গুপ্তচর তথ্যদাতাদের দেওয়া তথ্যের ওপরই বেশি নির্ভর করছে দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থা।

এদিকে গোয়েন্দা মহলের একটি অংশের ধারণা, মোজতবা খামেনি হয়তো ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলাতেই নিহত হয়েছিলেন, অথবা পরে আহত অবস্থায় মারা যান। যদিও বিষয়ে কোনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যদি তিনি জীবিত থাকেন, তাহলে তিনি তেহরানের কোনো ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ কিংবা রাজধানী থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের কোম শহরের একটি সামরিক বাঙ্কারে অবস্থান করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রাইমটিভি/এনজি