বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিলের ( ৮ জুলাই ) ফুটবলের সবচেয়ে বেদনাদায়ক ও লজ্জার দিন। ২০১৪ সালের এই দিনে নিজ দেশের মাটিতে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বিধ্বস্ত পরাজয় দেখেছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এক যুগ পেরিয়ে গেলেও সেই ক্ষত আজও ভুলতে পারেনি ব্রাজিল ও তাদের সমর্থকরা।

বেলো হরিজেন্তের স্তাদিও মিনেইরাওয়ে সেদিন ছিল উৎসবের আবহ। ঘরের মাঠে ৩৯ বছর ধরে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে অপরাজিত ব্রাজিলকে ফেভারিটই ধরা হচ্ছিল। যদিও ইনজুরির কারণে দলে ছিলেন না নেইমার এবং কার্ডের নিষেধাজ্ঞায় খেলতে পারেননি অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা।

ম্যাচের ১১ মিনিটে টমাস মুলারের গোলে এগিয়ে যায় জার্মানি। এরপর মাত্র ছয় মিনিটের ঝড়ে, ২৩ থেকে ২৯ মিনিটের মধ্যে চার গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় জার্মানরা। আধা ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার আগেই ৫-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিল।

দ্বিতীয়ার্ধে আন্দ্রে শুরলের জোড়া গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৭-০। নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে অস্কার একটি গোল শোধ করলেও ইতিহাসের অন্যতম বড় বিপর্যয় এড়াতে পারেনি সেলেসাওরা। শেষ পর্যন্ত ৭-১ গোলের ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপের সবচেয়ে স্মরণীয় ও বেদনাদায়ক ম্যাচগুলোর একটির সাক্ষী হয় ব্রাজিল।

ম্যাচ শেষে জার্মান ডিফেন্ডার ম্যাট হুমেলসও বলেছিলেন, দ্বিতীয়ার্ধে তারা ব্রাজিলকে আরও অপমান না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। অনেকের মতে, চাইলে জার্মানি আরও বড় ব্যবধানে জয় পেতে পারত।

২০১৪ সালের সেই পরাজয়ের পর থেকে ব্রাজিল আর আগের আধিপত্যে ফিরতে পারেনি। বিশ্বকাপ এসেছে-গেছে, নতুন প্রজন্ম এসেছে, কিন্তু ৮ জুলাইয়ের সেই ৭-১-এর দুঃস্বপ্ন আজও ব্রাজিল ফুটবলের ইতিহাসে এক দগদগে ক্ষত হয়ে রয়ে গেছে।

প্রাইমটিভি/এমআর