শ্রীলঙ্কার নেগোম্বো কারাগারে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই মাদকচক্রের বন্দিদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাতজন কারারক্ষীও রয়েছেন। এ ঘটনায় শতাধিক বন্দি ও কারারক্ষী আহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটিই দেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী কারাগার দাঙ্গা বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

পুলিশ জানিয়েছে, রোববার (৫ জুলাই) রাত থেকে নেগোম্বো কারাগারে দুই মাদকচক্রের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জখম এবং গুরুতর আহতদের দ্রুত নেগোম্বো হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নেগোম্বো হাসপাতালের পরিচালক পুষ্পা গামলাথ জানান, প্রথমে হাসপাতালে ২৩ জনের মরদেহ আনা হয়। পরে আরও তিনজনের মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়ায়। গুরুতর আহত ১৮ জনকে রাজধানী কলম্বোর জাতীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বিচারমন্ত্রী হারশানা নানায়াক্কারা এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, কারাগারের ভেতরে প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাংগুলোকে আলাদা রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার ভাষ্য, নিহতরা বন্দি নাকি অপরাধচক্রের সদস্য, সেটি নয়; সবচেয়ে বড় বিষয় হলো মানুষের প্রাণহানি, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সংঘর্ষের পর কারাগারের নারী ওয়ার্ডের কয়েকজন বন্দি ছাদে উঠে মুক্তির দাবি জানান। এ সময় ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ে কয়েকজন নারী বন্দি আহত হন।

ঘটনার তদন্তে অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকার।

কারা বিভাগের মুখপাত্র চামিন্দা গাজানায়াকে জানান, এ ঘটনায় কোনো বিদেশি বন্দি হতাহত হননি। মাদক পাচারের অভিযোগে আটক এক ব্রিটিশ নাগরিকও নিরাপদ রয়েছেন।

সোমবার কারাগারের বাইরে বন্দিদের স্বজনদের ভিড় জমে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে শ্রীলঙ্কা বিমানবাহিনী ড্রোন ও একটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করে। স্থানীয় বাসিন্দারা গোলাগুলির শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। এছাড়া সংঘর্ষের সময় কয়েকজন বন্দি কারারক্ষীদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়েছিল বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার কারাগারগুলোতে বর্তমানে ৪১ হাজার ২৫০ জন বন্দি রয়েছে, যা কারাগারগুলোর ধারণক্ষমতার প্রায় চারগুণ। সংশ্লিষ্টদের মতে, অতিরিক্ত বন্দি ও দীর্ঘদিনের চাপ কারাগার ব্যবস্থাপনাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।প্রয়োজনে এটি টিভি সংবাদ পাঠ উপযোগী স্ক্রিপ্ট বা ভয়েস ওভার স্ক্রিপ্ট হিসেবেও সংক্ষিপ্ত করে দিতে পারি।

সূত্র: গার্ডিয়ানস

প্রাইমটিভি/এনজি