টেকনাফে রোহিঙ্গাবাহী ট্রলারডুবি: ১৮ জনকে উদ্ধার, নিখোঁজ ৯

ছবিঃ সংগৃহীত
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ উপকূলে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টাকালে রোহিঙ্গাবাহী একটি ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে চার মাঝিমাল্লাসহ মোট ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে ট্রলারে থাকা আরও নয়জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের তথ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছে বিজিবি।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়া নৌঘাটসংলগ্ন বঙ্গোপসাগর এলাকা থেকে স্থানীয় জেলেরা তাদের উদ্ধার করেন। পরে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের মধ্যে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। কেউ নিজেদের আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির (আরসা) সদস্য বলে দাবি করেছেন, আবার কেউ সাধারণ রোহিঙ্গা পরিচয় দিয়েছেন। এছাড়া তারা কবে বাংলাদেশ ছেড়ে মিয়ানমারে গিয়েছিলেন, সে বিষয়েও ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। কারও দাবি, তিন বছর আগে, কারও মতে দুই বছর আগে, আবার কেউ ছয় মাস আগে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবির থেকে মিয়ানমারে গিয়েছিলেন। মিয়ানমারে খাদ্য ও আশ্রয় সংকটের কারণে তারা পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছেন।
উদ্ধার হওয়া ট্রলারের মাঝি নুর কামাল জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মিয়ানমারের খায়ুনখালী এলাকা থেকে ২৭ জন রোহিঙ্গাকে নিয়ে বাংলাদেশ অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন তারা। টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের গোলারচর এলাকায় পৌঁছানোর পর উত্তাল সাগরের ঢেউয়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। তার দাবি, ট্রলারে থাকা ২৭ জনের মধ্যে ১৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং বাকি নয়জন সাঁতরে অন্যত্র চলে গেছেন।
অন্যদিকে উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গা কাশেম আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা মিয়ানমারে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। খাদ্য ও বাসস্থানের তীব্র সংকটের কারণে বাংলাদেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। তবে উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছালে তাদের ট্রলারটি ডুবে যায়।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, সকালে নৌকাডুবির খবর পেয়ে স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। পরে তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা কী উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন এবং তাদের পরিচয় ও দাবির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
এদিকে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বিজিবির এজাহারের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট
© ২০২৬ প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।




