চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়া এলাকায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা মামলা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় গ্রামবাসী।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। এ সময় তারা অভিযুক্ত আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। আবুল কাশেম স্থানীয় মৃত নজির আহমদের ছেলে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মাহবুব আলম, মঞ্জুর আলম, জালাল উদ্দীন ও প্রবাসী মো. জুয়েল। পরে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বাংলাদেশ বেতারের সাবেক উপ-পরিচালক নবিদুর রহমান, চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক কর্মকর্তা শাহাব উল্লাহ বাহারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, জমিজমা ও ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে আবুল কাশেম দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও থানায় ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করে আসছেন। তাদের দাবি, যুবক বয়স থেকেই তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং দেশে ফিরে আসার পর গত প্রায় আট বছরে অন্তত অর্ধশত ব্যক্তিকে মিথ্যা মামলা ও অভিযোগের মাধ্যমে হয়রানি করেছেন। এসব ঘটনার কারণে চারজন প্রবাসী দেশে ফিরতেও আতঙ্কে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

বক্তারা আরও দাবি করেন, ১৯৮৫ সালে মদন মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে একটি মিথ্যা মামলায় আসামি করে গ্রেপ্তার করানো হয়েছিল। ওই ঘটনায় পুলিশি নির্যাতনের পর প্রাণনাশের আশঙ্কায় আবুল কাশেম সৌদি আরবে চলে যান বলে তাদের অভিযোগ।

এদিকে, চলতি সপ্তাহে প্রবাসী জুয়েল ও জালালের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও মারধরের অভিযোগ এনে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন আবুল কাশেম। অভিযোগটি তদন্ত করেন চন্দনাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রূপক ঘোষ। তিনি বলেন, "অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের বিন্দুমাত্র সত্যতা পাওয়া যায়নি।"

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আবুল কাশেমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি "ভুল নম্বরে কল করেছেন" বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ফলে এ বিষয়ে তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

মানববন্ধন থেকে স্থানীয়রা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।