ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় গভীর রাতে বসতঘরের জানালা ভেঙে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে স্থানীয় জনতার হাতে আটক দুই অভিযুক্তকে সদরপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে শনিবার (১ আগস্ট) সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। একই দিন দুপুরে অভিযান চালিয়ে আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন—হেলাল মৃধা (২০), রইস শিকদার (১৬) ও রনি বেপারী (১৭)।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার রাতে কিশোরীর দাদি চিকিৎসাধীন থাকায় পরিবারের কয়েকজন সদস্য হাসপাতালে ছিলেন। এ সুযোগে রাত আনুমানিক ১টার দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল বাড়ি ঘিরে ফেলে। দরজা না খুললে তারা জানালা ভেঙে কিশোরীকে জোরপূর্বক ঘর থেকে বের করে নিয়ে যায়।

পরিবারের দাবি, পরে তাকে মোটরসাইকেলে করে পাশের গ্রামের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তিন যুবক পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, রাত প্রায় ৩টার দিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কিশোরীকে বাড়ির উঠানে ফেলে পালানোর সময় এলাকাবাসী ধাওয়া দিয়ে হেলাল মৃধা ও রইস শিকদারকে একটি মোটরসাইকেলসহ আটক করেন। পরে তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক, জুয়া ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তারা একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করত এবং ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারেন বলেও দাবি করেন তারা।

ভুক্তভোগীর মা বলেন, শাশুড়ির চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে থাকার সুযোগে তার মেয়েকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে এ নৃশংস ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা এবং কিশোর গ্যাং পরিচালনার অভিযোগ আগে থেকেই ছিল।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে দুইজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং পরে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।