বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। নিজেদের টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর কান্না ধরে রাখতে পারেননি নেইমার জুনিয়র। ম্যাচ শেষে জাতীয় দলের হয়ে আর না খেলার কথাও জানান তিনি। এর একদিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ছেলে নেইমারকে উদ্দেশ্য করে আবেগঘন একটি দীর্ঘ বার্তা দিয়েছেন তার বাবা নেইমার সিনিয়র। 

২০২৬ বিশ্বকাপের আগে নতুন প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে চূড়ান্ত দলে একবারই সুযোগ পেয়েছিলেন নেইমার। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দিকে মাঠে নামার পর নরওয়ের বিপক্ষে প্রায় ৩০ মিনিট খেলেন তিনি। ওই ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করে বিশ্বকাপে জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের নবম গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড।

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া বার্তায় ছেলের ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত নানা স্মৃতির কথা তুলে ধরেন নেইমার সিনিয়র। তিনি লেখেন, “বাবা, কী অসাধারণ একটি পথচলা! এই যাত্রায় যেমন ছিল সংগ্রাম কঠিন সময়, তেমনি ছিল সৃষ্টিকর্তার অশেষ আশীর্বাদ।

তার ভাষ্য, ছোটবেলা থেকেই ছেলের মধ্যে সাধারণ প্রতিভার চেয়ে বড় কিছু দেখতে পেয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করেন, নেইমারের প্রতিভার পাশাপাশি তার জীবনের একটি বিশেষ উদ্দেশ্যও ছিল।

নেইমারের বাবা আরও জানান, পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি সিদ্ধান্তেই তারা নিজেদের বিশ্বাস খ্রিস্টান ধর্মীয় মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। অনেক সময় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হলেও ঈশ্বরের প্রতি আস্থা হারাননি, আর সেই বিশ্বাসই তাদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।

ছেলের ফুটবল জীবনের বিভিন্ন মাইলফলকের কথাও স্মরণ করেন তিনি। প্রথম গোল, ক্যারিয়ারের সূচনা, পেশাদার ফুটবলে অভিষেক, বড় বড় স্টেডিয়ামে খেলা, শিরোপা জয়, ব্রাজিল জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব এবং বিশ্বজুড়ে পরিচিতিসবকিছুরই সাক্ষী ছিলেন তিনি। তবে এসব অর্জনের চেয়েও একজন বাবা হিসেবে প্রতিটি মুহূর্তে সন্তানের পাশে থাকতে পারাটাকেই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে উল্লেখ করেন।

বার্তার একপর্যায়ে ছেলেকে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, “ফুটবল খেলা চালিয়ে যাও। আবারও বল পায়ে আনন্দ খুঁজে নাও, হাসিমুখে মাঠে ফিরে এসো। ঈশ্বর তোমাকে সুস্থ করে আরেকটি সুযোগ দিয়েছেন।

সমালোচনা, প্রত্যাশা কিংবা জীবনের নানা চাপ যেন নিজের ওপর না নেন, এমন পরামর্শও দেন তিনি। তার মতে, সব সিদ্ধান্ত মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে না; কিছু বিষয় পুরোপুরি ঈশ্বরের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। একটি অপূর্ণ স্বপ্ন বা একটি সিদ্ধান্ত কখনোই পুরো জীবনকে সংজ্ঞায়িত করতে পারে না।

ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে নেইমার সিনিয়র বলেন, সামনে কী হবে তা নিয়ে ভয় না পেয়ে বর্তমানকে উপভোগ করা উচিত। অনুশীলন, খেলা, হাসি, সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং পরিবারকে ভালোবাসার মধ্যেই জীবনের সৌন্দর্য খুঁজে নিতে বলেন তিনি। বাকিটা ঈশ্বরের ওপর ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

বার্তার শেষাংশে তিনি উল্লেখ করেন, ট্রফি, গোল কিংবা বিশ্বজোড়া খ্যাতির চেয়েও তিনি ছেলের জীবনে ঈশ্বরের আশীর্বাদকেই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখেন। তার বিশ্বাস, নেইমারের সামনে এখনও অনেক সুন্দর অধ্যায় অপেক্ষা করছে।

সবশেষে আবেগঘন ভাষায় তিনি লেখেন, “মনে রেখো, পৃথিবী তোমাকে ভালোবাসার আগেই ঈশ্বর তোমাকে ভালোবেসেছেন। আর বাবা হিসেবে আমি আবারও সেই একই পথ পাড়ি দিতে প্রস্তুতপ্রতিটি সফর, প্রতিটি ত্যাগ, প্রতিটি নির্ঘুম রাত, প্রতিটি দুশ্চিন্তা এবং প্রতিটি প্রার্থনার জন্য।

প্রাইমটিভি/এমআর