বিয়ে ইসলামে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং বৈধ পারিবারিক জীবন গঠনের অন্যতম ভিত্তি। নারী ও পুরুষের পারস্পরিক সম্পর্ককে পবিত্র ও বৈধ করার জন্য ইসলাম বিয়েকে হালাল করেছে। একই সঙ্গে পরিবার, বংশধারা ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে কিছু নির্দিষ্ট নারীর সঙ্গে বিয়েকে চিরতরে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “আর অবশ্যই আপনার আগে অনেক রাসুল পাঠিয়েছি। তাদেরকে স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দান করেছি।” (সুরা রাদ: ৩৮)

এছাড়া সুরা নিসার ২৩ থেকে ২৫ নম্বর আয়াতে যেসব নারীর সঙ্গে বিয়ে হারাম, তাদের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী একজন মুসলিম পুরুষের জন্য নিম্নোক্ত নারীদের সঙ্গে বিয়ে বৈধ নয়।

১. নিজের মা।

২. দাদি, নানি এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃসূত্রের নারীরা।

৩. নিজের মেয়ে, নাতনি এবং তাদের পরবর্তী বংশধর।

৪. সহোদরা, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোন।

৫. ফুপু, অর্থাৎ বাবার সহোদরা, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোন।

৬. স্ত্রীর মা, নানি, দাদি এবং যে স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক হয়েছে, তার পূর্ববর্তী বা পরবর্তী স্বামীর ঔরসজাত কন্যা (সৎমেয়ে)।

৭. খালা, অর্থাৎ মায়ের সহোদরা, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোন।

৮. ভাতিজি এবং তাদের পরবর্তী বংশধর।

৯. ভাগনি এবং তাদের পরবর্তী বংশধর।

১০. দুধ সম্পর্কের মেয়ে, তার কন্যা, দুধ ছেলের কন্যা এবং দুধ ছেলের স্ত্রী।

১১. দুধ মা এবং তার দিকের খালা, ফুপু, নানি, দাদি ও ঊর্ধ্বতন নারীরা।

১২. দুধবোন, দুধবোনের মেয়ে, দুধভাইয়ের মেয়ে এবং তাদের পরবর্তী বংশধর। ইসলামে দুধ সম্পর্ককে রক্ত সম্পর্কের মতোই বিবেচনা করা হয়েছে।

১৩. নিজের ছেলের স্ত্রী।

১৪. অন্যের বৈধ স্ত্রী।

ইসলামী শরিয়তে এসব নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য হলো পারিবারিক মর্যাদা, বংশধারার বিশুদ্ধতা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষা করা। তাই বিয়ের আগে শরিয়তের বিধান সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রাইমটিভি/এনজি