বিশ্বকাপ শেষ হতেই ফুটবলের দুই শীর্ষ সংস্থা ফিফা ও উয়েফার সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রকাশ্যে এসেছে। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপজুড়ে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও নানা বিতর্ক ছিল আলোচনায়। এরই ধারাবাহিকতায় ফিফার প্রতি অসন্তোষ জানিয়ে নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনাল বয়কট করেন উয়েফা সভাপতি আলেকজান্ডার সেফেরিন। উদ্বোধনী ম্যাচে উপস্থিত থাকলেও ফাইনালে তাকে দেখা যায়নি। দ্য টাইমস, বিবিসি স্পোর্ট ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এই বিরোধের অন্যতম কারণ মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের পর এক ম্যাচের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, এ সিদ্ধান্তের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তবে ফিফা জানিয়েছে, সিদ্ধান্তটি তাদের শৃঙ্খলা কমিটি স্বাধীনভাবে নিয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। উয়েফা অবশ্য এ ঘটনাকে ফুটবলের ন্যায্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছে।

শুধু বালোগান ইস্যুই নয়, বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রায় ২৭ মিনিটের হাফটাইম শো, উচ্চমূল্যের টিকিট, ভবিষ্যতে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিকল্পনা এবং ফিফার নতুন কিছু রেফারিং ও ভিএআর-সংক্রান্ত নীতিও উয়েফার সমালোচনার মুখে পড়েছে। সেফেরিন জানিয়েছেন, ইউরো ২০২৮-এ টিকিটের দাম বাড়ানো হবে না এবং ফিফার সব নতুন নিয়ম ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় অনুসরণ করা হবে না।

এছাড়া, মার্কিন ভিসা না পাওয়ায় বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করতে না পারা সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতানকে আগামী উয়েফা সুপার কাপের ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনাও করছে উয়েফা, যা ফিফার অবস্থানের প্রতি প্রতীকী জবাব হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

প্রাইমটিভি/এমআর