২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল পুনরায় আয়োজনের দাবিতে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একটি পিটিশন চালু হয়েছে। বৈশ্বিক আবেদনভিত্তিক ওয়েবসাইট চেঞ্জ ডট অর্গ–এ গিজেলা সানচেজ নামে এক ফুটবল সমর্থক এই পিটিশন শুরু করেন। ইতোমধ্যে এতে প্রায় ৬২ হাজার মানুষ স্বাক্ষর করেছেন।

গত রোববার (১৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্লোভেনিয়ার রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে আবেদনটি করা হয়। পিটিশনে দাবি করা হয়েছে, ম্যাচের কিছু বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্ত খেলার ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট বা যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। আবেদনকারী ফিফার কাছে ম্যাচের রেফারিং পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে স্পেন ১-০ গোলে হারায় আর্জেন্টিনাকে। ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলেই ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নেয় স্প্যানিশরা। সেই ম্যাচের রেফারিং নিয়েই মূলত নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

তবে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, অনলাইন পিটিশনের কোনো আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতা নেই। আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা কেবল অনলাইন স্বাক্ষর অভিযানের ভিত্তিতে কোনো ম্যাচের ফল বাতিল বা পুনরায় আয়োজন করে না। টুর্নামেন্টের ফল পরিবর্তন বা ম্যাচ পুনরায় আয়োজনের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রীড়া বিধিমালা অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট আইনগত ভিত্তি বা ফিফার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

এর আগেও বিশ্বকাপ চলাকালে একই ধরনের উদ্যোগ দেখা গেছে। স্পেনের বিপক্ষে সেমিফাইনালে একটি বিতর্কিত পেনাল্টি সিদ্ধান্তের পর ম্যাচ পুনরায় আয়োজনের দাবিতে ফ্রান্সে অনলাইন পিটিশন চালু হয়েছিল। সেই আবেদনে ৮২ হাজারের বেশি স্বাক্ষর সংগ্রহ হলেও শেষ পর্যন্ত তা টুর্নামেন্টের ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলেনি।

এদিকে ফাইনালের রেফারিং নিয়ে বিতর্ক থাকলেও স্পোর্টসম্যানশিপের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, "রেফারিং কি অন্যায্য ছিল? না, একদমই না। আমরা হেরেছি কারণ স্পেন আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। আমাদের সেটাই মেনে নিতে হবে।"